দণ্ডবিধির ১২৪-এ ধারা তথা বহুল আলোচিত ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ আইনটিকে সংবিধানবিরোধী ও অকার্যকর ঘোষণা করার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি করেন।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দণ্ডবিধির ১২৪-এ ধারাটি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে। আবেদনে বলা হয়:
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের সমালোচনা করা বা ভিন্নমত পোষণ করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার; কিন্তু বর্তমান আইনের কারণে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো গঠনমূলক সমালোচনাকেও ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ থেকে যায়।
রিটকারী আইনজীবী দাবি করেন, এই আইনটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের একটি অবশেষ। তৎকালীন সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশরা এটি প্রণয়ন করেছিল, যা স্বাধীন বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সংবিধানের সঙ্গে পুরোপুরি অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
ধারা ১২৪-এ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭, ২৬, ২৭, ৩১, ৩২ এবং ৩৯-এ বর্ণিত নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। বিশেষ করে ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদে দেওয়া চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতার অধিকার এই আইনের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
রিটে দণ্ডবিধির ১২৪-এ ধারাকে কেন সংবিধানবিরোধী ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আইনটি বাতিলের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা এই আইনটির অপপ্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে আইনটি সংস্কার বা বাতিলের দাবি ওঠার প্রেক্ষাপটে এই রিট আবেদনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই রিটের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।