আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দিচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলের সামনে তিনি এই সাক্ষ্য প্রদান শুরু করেন।
মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেছিলেন আবদুল্লাহিল আমান আযমী। ওই দিন তার জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় আজ সোমবার পুনরায় শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল। জবানবন্দিতে তিনি সেনাবাহিনী থেকে তাকে অবৈধভাবে বরখাস্ত করা এবং পরবর্তীতে কোথা থেকে তাকে গুম করে কোথায় নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল, তার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার ওপর জারি করা অবৈধ বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাকে সসম্মানে অবসর প্রদান করে।
আজ সকালে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে এই মামলার অন্যতম তিন আসামিকে কড়া পাহারায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন-ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১২ জন বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। গত ১৮ ডিসেম্বর ১৩ জন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তবে মামলার ১০ জন আসামি এখনো পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ এগিয়ে চলছে।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার সঙ্গে রয়েছেন গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদীসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও শুনানিতে অংশ নিয়েছেন।
–লামিয়া আক্তার










