জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত দিনে (৫ আগস্ট) রাজধানীর চানখাঁরপুলে সংঘটিত পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের মামলার রায় আজ ঘোষিত হয়নি। রায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ২৬ জানুয়ারি রায় ঘোষণার নতুন তারিখ ধার্য করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আজ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত থাকায় সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্ট ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। সকাল পৌনে ১০টার দিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি—শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে কড়া পাহারায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় পেছানোর আদেশের পর তাদের পুনরায় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এদিন রায়ের খবর শুনতে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছিলেন শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ ও মা সানজিদা খান দীপ্তি। ছেলের রক্তমাখা রাজপথের খুনিদের বিচার দেখতে আসা এই দম্পতি রায় পিছিয়ে যাওয়ার খবরে কিছুটা মুষড়ে পড়েন। তবে তারা আশা প্রকাশ করেন, ২৬ জানুয়ারি আদালত খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবেন। এছাড়া অন্য শহীদদের পরিবারের সদস্যরাও ন্যায়বিচারের আশায় আজ আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন চানখাঁরপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত বছরের ১৪ জুলাই আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায়: তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন।
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও বর্তমান সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রসিকিউশন পক্ষ ১৯টি ভিডিও, পত্রিকার ১১টি প্রতিবেদন এবং মৃত্যু সনদসহ ব্যাপক তথ্যপ্রমাণ আদালতে দাখিল করেছে।
এই মামলার প্রধান আসামি ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ চারজন এখনো পলাতক। পলাতক অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক এডিসি শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং সাবেক এসি মোহাম্মদ ইমরুল। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ২৬ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধেই রায় ঘোষণা করা হবে।
প্রসিকিউশন পক্ষ যুক্তিতর্কে সকল আসামির জন্য সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে খালাস প্রার্থনা করেছে। এখন পুরো জাতি ২৬ জানুয়ারির দিকে তাকিয়ে আছে, যেদিন জুলাই বিপ্লবের এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার প্রথম রায় আসতে যাচ্ছে।