১২ বছর পর বালামের অ্যালবাম ‘মাওলা’

বাংলাদেশের পপ ও মেলোডি গানের জগতে বালাম একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় নাম। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শ্রোতারা তাঁর নতুন কোনো পূর্ণাঙ্গ অ্যালবামের অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বালাম নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি তাঁর পঞ্চম একক অ্যালবাম নিয়ে ফিরছেন। অ্যালবামটির নাম রাখা হয়েছে ‘মাওলা’। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অ্যালবামটি প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

২০১৩ সালে প্রকাশিত ‘ভুবন’ অ্যালবামের পর বালামকে আর কোনো পূর্ণাঙ্গ অ্যালবামে পাওয়া যায়নি। যদিও এই দীর্ঘ সময়ে তিনি নাটক ও সিনেমার প্লেব্যাক এবং কিছু একক গান (সিঙ্গেল) প্রকাশ করে ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, তবে তা একটি অ্যালবামের অভাব পূরণ করতে পারেনি। দীর্ঘ বিরতির পর হঠাত কেন অ্যালবামের সিদ্ধান্ত—এই প্রশ্নে বালাম জানান, তিনি এখন আবার সংগীতে শতভাগ মনোযোগ দিতে চান। তাঁর মতে, একটি সিঙ্গেল গান দিয়ে শ্রোতাদের প্রত্যাশা পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হয় না। একটি অ্যালবামে যখন একাধিক গান থাকে, তখন সেখানে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ থাকে, যা বিভিন্ন রুচির মানুষের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

নতুন এই অ্যালবামে মোট ছয়টি গান থাকছে। এর বিশেষত্ব হলো এর শিরোনাম সংগীত ‘মাওলা’। গানটি একটি সুফি-ধারার কম্পোজিশন, যা বালামের আগের কাজের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ব্যক্তিগত জীবনের উপলব্ধি থেকে গানটির জন্ম। কোভিডকালীন সেই ঘরবন্দী সময়ে মানুষের মানসিক অস্থিরতা এবং আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসাকে কেন্দ্র করেই এই গানটি তৈরি হয়েছে। বালাম মনে করেন, বর্তমান বিশ্বের অস্থির পরিস্থিতিতে এই গানের কথা ও সুর শ্রোতাদের হৃদয়ে প্রশান্তি জোগাবে।

বালাম সবসময়ই তাঁর সংগীতায়োজনে সমসাময়িক ধারা বজায় রাখতে পছন্দ করেন। এই অ্যালবামের পরিকল্পনার সময় তিনি বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’র পছন্দকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে তিনি ভুলে যাননি তাঁর সেই পুরনো ভক্তদেরও, যারা তাঁর মেলোডি গানের ভক্ত। অ্যালবামের প্রতিটি গানে ভিন্ন ভিন্ন ধারা বা জনরা ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু সব গানকে সুতোয় বেঁধে রেখেছে ‘মেলোডি’। এটি এমন একটি অ্যালবাম হতে যাচ্ছে যেখানে আধুনিক সাউন্ড এবং ক্ল্যাসিক মেলোডির এক চমৎকার সমন্বয় ঘটবে।

অ্যালবামের ছয়টি গানের সুর ও সংগীতায়োজন বালাম নিজেই করেছেন। গানের মান ধরে রাখার জন্য তিনি দীর্ঘ সময় নিয়ে কাজ করেছেন। ইতোমধ্যে শিরোনাম গানসহ অধিকাংশ গানের কাজ শেষ। বালাম জানিয়েছেন, অ্যালবামের গানগুলো মূলত অডিও ফরম্যাটে মুক্তি পাবে, তবে অন্তত একটি গানের দৃষ্টিনন্দন মিউজিক ভিডিও তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। গানের গীতিকারদের নাম এখনই প্রকাশ না করলেও, বালাম কথা দিয়েছেন যে কথা ও সুরের গাঁথুনিতে শ্রোতারা নতুনত্ব খুঁজে পাবেন।

স্মৃতির পাতায় তাকালে দেখা যায়, ২০০৭ সালে ‘বালাম’ অ্যালবামের মাধ্যমে তাঁর একক ক্যারিয়ারের জয়যাত্রা শুরু। এরপর ‘বালাম ২’ (২০০৮), ‘বালাম ৩’ (২০১০) এবং ‘ভুবন’ (২০১৩) অ্যালবামগুলো তাঁকে সাফল্যের তুঙ্গে নিয়ে যায়। ‘এক মুঠো রোদ্দুর’, ‘নেশা’, ‘তোমার জন্য’ বা ‘রিমঝিম’-এর মতো গানগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। গত বছর (২০২৩) ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার টাইটেল গান দিয়ে তিনি যে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করেছেন, তা প্রমাণ করে তাঁর জনপ্রিয়তা এখনও অম্লান। এরপর ‘রাজকুমার’ সিনেমার গানটিও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সংগীত ক্যারিয়ারের এই নতুন বাঁকে দাঁড়িয়ে বালাম অত্যন্ত আশাবাদী। ১২ বছরের এই দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে ‘মাওলা’ অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি আবারও সংগীতের মূল ধারায় নিজের অবস্থান পোক্ত করতে চান। ভক্তদের কাছেও এটি একটি ঈদ উপহারের মতো। বালামের এই নতুন যাত্রা এবং সুফি-মেলোডির সংমিশ্রণ বাংলা সংগীত জগতে নতুন কোনো মাত্রা যোগ করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বিথী রানী মণ্ডল/