ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য তিন দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জাতীয় পুলিশ প্রধান আহমদ-রেজা রাদান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে জানান, যারা ভুল তথ্য বা প্ররোচনার কারণে বিক্ষোভে জড়িয়েছেন, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করলে তুলনামূলক হালকা শাস্তির সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, অনেক তরুণ আবেগ বা উত্তেজনার বশে সহিংস পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়েছে। এদের রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে না দেখে বিভ্রান্তির শিকার নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। তবে এই নমনীয় সুযোগ কেবল তিন দিনের জন্যই প্রযোজ্য থাকবে।
সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নির্ধারিত সময় পার হলে দাঙ্গায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে কারণে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা হলে তা ইরানের জন্য সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হবে।
প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, চলমান সহিংসতার পেছনে দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত বিদেশি নিষেধাজ্ঞা ও বৈরী নীতির বড় ভূমিকা রয়েছে। তার মতে, অর্থনৈতিক চাপ ও জীবনযাত্রার দুরবস্থা সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে, যা কাজে লাগাতে চাইছে বাইরের শক্তিগুলো।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের কথা বলায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক চাপ—এই দুইয়ের সমন্বয়ে ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন এক সংকটময় পর্যায়ে রয়েছে।
নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে নিরাপত্তা বাহিনী আরও কঠোর অভিযান শুরু করতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। এরই মধ্যে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
-আফরিনা সুলতানা










