চানখাঁরপুল ট্র্যাজেডি: ট্রাইব্যুনালে ৪ আসামি, রায় ঘোষণার অপেক্ষা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত দিনে (৫ আগস্ট) রাজধানীর চানখাঁরপুলে সংঘটিত পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের মামলার রায় ঘিরে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় টানটান উত্তেজনা ও কড়া নিরাপত্তা বিরাজ করছে। মামলার ৪ আসামিকে ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পলাতক ৪ আসামির অনুপস্থিতিতেই আজ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার দিকে কড়া পাহারায় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে গ্রেপ্তার চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তারা হলেন শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন এবং তিন কনস্টেবল সুজন মিয়া, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
এ মামলার মোট আসামি ৮ জন। গ্রেপ্তার চারজন কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক এডিসি শাহ আলম ও সাবেক এসি মোহাম্মদ ইমরুল এখনো পলাতক। তাদের বিরুদ্ধেই আজ রায় ঘোষণা করবেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ।
মামলার কালপঞ্জি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
ঘটনা: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে গুলি।
শহীদ: শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক।
অভিযোগ দাখিল: গত বছরের ২৫ মে ৯০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল।
বিচার শুরু: ১৪ জুলাই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু।
 তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে ১৯টি ভিডিও, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, অডিও এবং মৃত্যু সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম দায়েরকৃত মামলা হলেও রায়ের ক্রমানুসারে এটি দ্বিতীয় রায়। গত ২৪ ডিসেম্বর দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন। এই রায়ের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের পরিবার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রায়ের পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে।
লামিয়া আক্তার