মাদুরোকে তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য কাবেলোর, এখন কাবেলোকে ধরিয়ে ‍দিতেও পুরস্কার ঘোষণা

ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সামরিক অভিযানে আটকের পর দেশটি এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে। তবে এই অভিযানের কয়েক মাস আগে থেকেই মাদুরোর পর সবচেয়ে প্রভাবশালী ও কট্টরপন্থী নেতা দিয়োসদাদো কাবেলোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের গোপন যোগাযোগ ছিল বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও এই যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

৬২ বছর বয়সী দিয়োসদাদো কাবেলো ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ রাখেন। এছাড়া সরকারপন্থী সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠী ‘কোলেক্তিভোস’-এর প্রধান নিয়ন্ত্রকও তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরো অপসারিত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং দেশে গৃহযুদ্ধ এড়াতে কাবেলোর নীরব থাকা অত্যন্ত জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্র কাবেলোকে সতর্ক করে বলেছে, তিনি যেন তার নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনী ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন না চালান। বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে থাকা মাদক পাচারের মামলা ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

মাদুরোর মতো কাবেলোর বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালে তাকে একটি আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের নেতা হিসেবে অভিযুক্ত করে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ওয়াশিংটন। তাসত্ত্বেও ৩ জানুয়ারির অভিযানে মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হলেও কাবেলোকে কেন আটক করা হলো না, তা নিয়ে খোদ ওয়াশিংটনেই প্রশ্ন উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সূত্র জানায়, কাবেলোর নিরাপত্তা কাঠামো মূলত অক্ষত রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করলে ভেনেজুয়েলার সশস্ত্র বাহিনী এবং মিলিশিয়ারা রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহ শুরু করতে পারত, যা সামাল দেওয়া পেন্টাগনের জন্য কঠিন হতো।

বর্তমানে কাবেলো অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের প্রতি জনসমক্ষে আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। তবে পর্দার আড়ালে তার ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা সন্দিহান। রদ্রিগেজের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব রয়েছে। কাবেলো যদি কোনো কারণে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত ভঙ্গ করেন, তবে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি আবারও ঘোলাটে হয়ে উঠতে পারে।

সাবেক সামরিক কর্মকর্তা কাবেলো প্রয়াত হুগো চাভেজের সময় থেকেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। তাকে বাদ দিয়ে ভেনেজুয়েলায় কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা সম্ভব নয় বলেই মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এক কোটি ডলারের বেশি পুরস্কার ঘোষিত একজন ‘মাদক সম্রাট’-এর সঙ্গে প্রশাসনের এই দফারফা মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ফিরবে নাকি কাবেলোর মতো শক্তিশালী সামরিক নেতাদের ছায়া-শাসনে দেশটি বন্দি থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে।

-এম. এইচ. মামুন