উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ার জামফারা অঙ্গরাজ্য -এ সশস্ত্র বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং নিখোঁজদের তালিকা এখনও প্রস্তুত করা হচ্ছে। খবর আলজাজিরার।
বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত বুক্কুয়ুম এলাকার তুঙ্গান দুতসে গ্রামে এই হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে করে শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি গ্রামে প্রবেশ করে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং নারী ও শিশুদের অপহরণ করে নিয়ে যায়।
বুক্কুয়ুম সাউথের আইনপ্রণেতা হামিসু এ. ফারু বার্তা সংস্থা রয়টার্স -কে ফোনে জানান, “তারা একের পর এক গ্রামে হামলা চালাচ্ছে… অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে।” তবে অপহৃতদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহি সানি বলেন, হামলার আগের দিন গ্রামবাসীরা ১৫০টিরও বেশি মোটরসাইকেলে সশস্ত্র ব্যক্তিদের চলাচল দেখতে পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করেছিলেন। “কেউ ঘুমাতে পারেনি। আমরা সবাই শোকে আছি,” বলেন তিনি। হামলায় তার পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন।
নাইজেরিয়ার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপরাধী চক্র ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সহিংসতায় বিপর্যস্ত। সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নাইজার রাজ্যেও একাধিক হামলায় অন্তত ৪৬ জন নিহত হন।
এদিকে নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে নাইজেরিয়া। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ডিসেম্বর মাসে মার্কিন বাহিনী উত্তরাঞ্চলের সোকোটো অঙ্গরাজ্য-এ নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিমান হামলা চালায়।
এছাড়া নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিতে ১০০ মার্কিন সেনা সদস্য দেশটিতে পৌঁছেছেন। তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবেন না, বরং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবেন বলে জানানো হয়েছে।
-বেলাল










