বিশ্বের অন্যতম অপরাধপ্রবণ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় থামছেই না বন্দুক সহিংসতা। দেশটির পর্যটন নগরী কেপটাউনের একটি টাউনশিপে শনিবার ভোরে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে এক নারীসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সংগঠিত অপরাধচক্রের ‘চাঁদাবাজি’ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, কেপটাউনের কুখ্যাত ‘কেপ ফ্ল্যাটস’ এলাকার মারিকানা টাউনশিপে মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর এই হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা অতর্কিতে গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন, যাদের বয়স ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। এছাড়া এই ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি পরিকল্পিত কোনো গ্যাং হামলা বা এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজির ফল হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি; সন্দেহভাজনদের ধরতে এলাকায় বিশেষ অভিযান চলছে।
শনিবারের এই হামলাটি যেখানে ঘটেছে, সেই কেপ ফ্ল্যাটস এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাং সহিংসতার জন্য পরিচিত। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই এই এলাকায় দুই হাজারের বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাদক ব্যবসা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সেখানে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়ই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা আফ্রিকার সবচেয়ে শিল্পোন্নত দেশ হলেও এটি এখন অপরাধী ও সশস্ত্র চক্রের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। পুলিশের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৩ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
গত ডিসেম্বরেও দেশটিতে দুটি আলাদা গণগুলির ঘটনা ঘটেছিল। একটি হোস্টেল ও বারে চালানো সেই হামলায় শিশুসহ ২৪ জন নিহত হন। ধারাবাহিক এই হত্যাকাণ্ডগুলো দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিকেই তুলে ধরছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চরম বেকারত্ব, বৈষম্য এবং পুলিশের অদক্ষতার সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় সংগঠিত অপরাধ বাড়ছে। বিশেষ করে ‘প্রটেকশন মানি’ বা চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটগুলো এখন এতটাই শক্তিশালী যে তারা প্রকাশ্য দিবালোকে জনবহুল এলাকায় হত্যাকাণ্ড ঘটাতে দ্বিধা করছে না। কেপটাউনের এই সাতজনের মৃত্যু সেই কাঠামোগত সহিংসতারই একটি অংশ।
সূত্র : আরব নিউজ
-এম. এইচ. মামুন










