শোকজ নোটিশের জবাব দিলেন মামুনুল হক, অভিযোগ অস্বীকার

ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী মামুনুল হক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দেওয়া কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, নিজের পক্ষে কোনো ধরনের নির্বাচনী লিফলেট বিতরণ না করলেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছেন, যা আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল নয়।

মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মামুনুল হক বলেন, রিটার্নিং অফিসার কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই বা পূর্ব যোগাযোগ ছাড়াই শোকজ নোটিশ দিয়েছেন। এতে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় থাকবে কি না, সে বিষয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেন তিনি। গত ১৩ জানুয়ারি বিকেলে নির্বাচন ভবনের সামনে লিফলেট বিতরণের একটি ভিডিও ও প্রতিবেদন একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হওয়ার পর এ বিষয়ে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশের জবাব দেওয়ার পর মামুনুল হকের আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, শোকজের লিখিত জবাবে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে এখানে কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি। বরং গণভোটের বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে, যা সরকারের ও জনগণের পক্ষে করা একটি কার্যক্রম। একই সঙ্গে সব প্রার্থীর জন্য আচরণবিধি যেন সমানভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ না হয়, সে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হক বলেন, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তার নির্বাচনী প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ নষ্ট করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসের পক্ষ থেকে ন্যূনতম যোগাযোগ ছাড়াই শোকজ নোটিশ দেওয়াকে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, লিফলেটে শুধুমাত্র গণভোট ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা ছিল। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অক্ষুণ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। বিভ্রান্তিকর গণমাধ্যম প্রচারণার মাধ্যমে কোনো প্রার্থী যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হয়েও এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলে নির্বাচনে সমান সুযোগ কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বলেও মন্তব্য করেন মামুনুল হক।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়ে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারির আগে কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলকে প্রচারণায় নামতে নিষেধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আচরণবিধি মূলত সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের জন্য প্রযোজ্য। গণভোটে কোনো প্রার্থী বা দল নেই। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ২১ জানুয়ারির আগে প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের প্রচার না করাই সমীচীন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

— এজাজ আহম্মেদ/মামুন