মাদারীপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার সৈয়দ তুহিন হাসান হত্যাকাণ্ডের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় মাদারীপুর সদর থানাধীন কুকরাইল এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আবুল হোসেনের নিজ বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত তুহিন হাসানের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, আমার ছেলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার ছিলেন। গত ৩১ জুলাই তিনি মাদারীপুর সদরের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে দৈনন্দিন কাজ তদারকির জন্য গেলে সেখানে কতিপয় সন্ত্রাসী তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করে।
তিনি আরও বলেন, হত্যার পর ঘটনাটিকে হার্ট অ্যাটাক হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে পরিবারের সন্দেহ হলে তুহিনের মাথার পেছনে ও স্পর্শকাতর স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। বিষয়টি জানতে চাইলে তার নাইটগার্ড মো. মোশারফ মিয়া পুরো ঘটনার বিবরণ দেন এবং চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানান।
এ ঘটনায় তিনি ৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
সৈয়দ আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও রহস্যজনক।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
হাবিবুর রহমান সুমন,মাদারীপুর










