কলাপাতার খাবারে যেসব উপকার মিলবে

কলার পাতায় প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে পলিফেনল থাকে। এগুলো মূলত গ্রিন টি বা কিছু ফলের মতো স্বাস্থ্যকর উপাদান। যখন গরম খাবার পাতায় পরিবেশন করা হয়, তখন এই পলিফেনল খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। ফলে শরীর ফ্রি-র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পায়। নিয়মিত এ ধরনের খাবার গ্রহণ ক্যান্সার, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার খাবার সংস্কৃতিতে কলাপাতার ব্যবহার বহু শতকের পুরনো ঐতিহ্য। প্রাচীনকাল থেকে কলার পাতাকে খাবার পরিবেশনের জন্য প্রাকৃতিক “প্লেট” হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি শুধু ঐতিহ্য নয়, বরং পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবেও বিবেচিত হয়। গরম খাবার কলার পাতায় রাখলে পাতার হালকা সুবাস বের হয়, যা খাবারের স্বাদ ও মনোরম সুগন্ধ বাড়ায়।

কলার পাতায় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। পাতার উপরের স্তরে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বাধা দেয়। এর ফলে ফুড পয়জনিং বা খাদ্যজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমে এবং খাবার নিরাপদ হয়। একই সঙ্গে পাতার প্রাকৃতিক মোমজাতীয় স্তর হজমে সহায়ক। গরম খাবারের সঙ্গে এটি মিশে হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

প্লাস্টিক বা সিন্থেটিক প্লেটের তুলনায় কলার পাতা সম্পূর্ণ রাসায়নিক মুক্ত। এতে বিপিএ বা ফথ্যালেটের মতো ক্ষতিকারক উপাদান থাকে না, যা প্লাস্টিকে পাওয়া যায়। ফলে খাবারে কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক মেশার সম্ভাবনা থাকে না। এছাড়া, কলার পাতায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পলিফেনল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ কমায়।

পরিবেশের দিক থেকেও কলার পাতা অত্যন্ত উপকারী। এগুলো সম্পূর্ণরূপে বায়োডিগ্রেডেবল এবং বর্জ্য তৈরি করে না। খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ানোর পাশাপাশি হজমেও সহায়ক হওয়ার কারণে কলার পাতা প্রাচীন ও আধুনিক উভয় রূপেই স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের নিখুঁত মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।

-বিথী রানী মণ্ডল