বর্তমান চাকরি নিয়ে অসন্তোষ অনেক পেশাজীবীর মধ্যেই বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করছে। একদিকে নতুন পেশার সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ, অন্যদিকে ব্যর্থতার ভয়, পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা ও সিদ্ধান্তহীনতা—সব মিলিয়ে ক্যারিয়ার পরিবর্তনের পথ অনেকের জন্য জটিল হয়ে ওঠে।
ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, চাকরি বদলানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ধারাবাহিকতার অভাব। এই জায়গায় সহায়ক হতে পারে ‘৩০–৩০–৩০ রুল’ নামে পরিচিত একটি কার্যকর পদ্ধতি। চাকরি পরিবর্তনের আগে নিজেকে প্রস্তুত ও যাচাই করার জন্য ক্যারিয়ার কোচরা এটি একটি ব্যবহারিক নির্দেশনা হিসেবে দেখেন। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক বা আইনি নিয়ম নয়; বরং সময় ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতা উন্নয়নের একটি সহজ কাঠামো।
এই নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিনের ৯০ মিনিট সময়কে তিনটি ৩০ মিনিটের ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম ৩০ মিনিট শেখার জন্য বরাদ্দ থাকে। এ সময় নতুন পেশা বা খাত সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, প্রয়োজনীয় ভাষা ও কৌশল বোঝা, অনলাইন কোর্স করা, ইন্ডাস্ট্রি–সংক্রান্ত লেখা পড়া কিংবা বিশেষজ্ঞদের আলোচনা শোনা যেতে পারে।
পরের ৩০ মিনিট ব্যবহার করা হয় নতুন দক্ষতা চর্চার জন্য। এতে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর জোর দেওয়া হয়—যেমন প্রয়োজনীয় টুল ব্যবহার শেখা, ছোট আকারের প্রজেক্ট করা, কেস স্টাডি তৈরি করা কিংবা বাস্তব সমস্যার সমাধান অনুশীলন করা।
শেষ ৩০ মিনিট রাখা হয় নেটওয়ার্কিং ও নিজের উপস্থিতি দৃশ্যমান করার কাজে। এর মধ্যে রয়েছে পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলা, লিংকডইনে নিয়মিত সক্রিয় থাকা, অনলাইন বা ভার্চ্যুয়াল ইভেন্টে অংশ নেওয়া ইত্যাদি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই নিয়মের শক্তি হলো জ্ঞান, দক্ষতা ও সুযোগ—এই তিনটির সমন্বয়। ব্যস্ত কর্মজীবনের মাঝেও প্রতিদিন মাত্র দেড় ঘণ্টা সময় ব্যয় করে ধীরে ধীরে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। যারা এই পদ্ধতি অনুসরণ করেন, তারা তুলনামূলক কম মানসিক চাপ নিয়ে ধারাবাহিক অগ্রগতি করতে পারেন এবং নতুন ক্যারিয়ারের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে সক্ষম হন।
৩০–৩০–৩০ নিয়ম আবেগের তাড়নায় হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। এটি ঝুঁকি কমায়, ক্যারিয়ারকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণকে স্পষ্ট করে তোলে।
তবে মনে রাখতে হবে, এই পদ্ধতি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, আর্থিক নিরাপত্তা ও পারিবারিক দায়দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়েই ক্যারিয়ার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।










