কাঁচা খেজুরের রস না খাওয়াই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা

ছবি: সংগৃহীত

নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর সতর্কতা হলো কাঁচা খেজুরের রস পান না করা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর শীত মৌসুমে নিপাহ সংক্রমণের পেছনে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায় এই কাঁচা রস। তাই আতঙ্কিত না হয়ে, একটি অভ্যাস বদলালেই প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে বহু মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (IEDCR) জানায়, নিপাহ ভাইরাস একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যার মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। রাতের বেলায় বাদুড় খেজুরের গাছে বসে কাঁচা রসে লালা, মল ও মূত্র ত্যাগ করে। সেই দূষিত রস সকালে সংগ্রহ করে পান করার মাধ্যমেই মানুষ সবচেয়ে বেশি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

কাঁচা রস কেন এত বিপজ্জনক

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বাদুড় খাওয়া বা আংশিক খাওয়া ফল থেকেও সংক্রমণ হতে পারে, তবে কাঁচা খেজুরের রসই নিপাহ ছড়ানোর সবচেয়ে বড় উৎস। কারণ এই রসে সরাসরি বাদুড়ের লালা ও মলমূত্র মিশে যায়, যা খালি চোখে বোঝা যায় না। একবার এই রস পান করলেই ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে।

আক্রান্তের লক্ষণ

নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে হালকা লক্ষণ থাকলেও পরে দ্রুত অবস্থার অবনতি ঘটে। সন্দেহ হলেই দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

প্রতিরোধই একমাত্র উপায়

নিপাহ ভাইরাসের কোনো টিকা বা নিশ্চিত চিকিৎসা নেই। তাই প্রতিরোধই একমাত্র ভরসা। বিশেষজ্ঞদের মতে
সবচেয়ে আগে ও সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ হলো কাঁচা খেজুরের রস সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা। পাশাপাশি মাটিতে পড়ে থাকা বা বাদুড় খাওয়া ফল না খাওয়া, ফল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া এবং অসুস্থ ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাও জরুরি।

নিপাহ ভাইরাস নিয়ে ভয় নয় সচেতনতা ও অভ্যাস পরিবর্তনই পারে প্রাণ বাঁচাতে। একটি ছোট সিদ্ধান্ত কাঁচা খেজুরের রস না খাওয়া নিপাহ প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হতে পারে।

সাবরিনা রিমি/