এমবাপ্পে থাকলেই কি কোচদের বিদায়?

ফুটবল বিশ্বে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু রিয়াল মাদ্রিদ থেকে জাবি আলোনসোর বিদায়। মাত্র সাত মাসের মাথায় রিয়ালের কোচের পদ হারানোকে ঘিরে নানা বিশ্লেষণ ও ভেতরের খবর সামনে আসছে। এ বিদায়ের পেছনে দলীয় পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমের অস্থিরতাও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

এই বিদায়ের সঙ্গে অনেকেই কিলিয়ান এমবাপ্পের নাম জুড়ে দিচ্ছেন। কারণ, ফরাসি তারকা যে দলেই খেলেছেন, সেখানেই কোচ পরিবর্তনের ঘটনা ঘন ঘন ঘটেছে। পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদে খেলার সময়ে এমবাপ্পের দল দুটিতে মোট ছয়বার কোচ বদল হয়েছে।

প্যারিস সাঁ জার্মাঁতে থাকার সময় এমবাপ্পে উনাই এমেরি, টমাস টুখেল, মরিসিও পচেত্তিনো ও ক্রিস্তফ গালতিয়েরের মতো কোচদের অধীনে খেলেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই দায়িত্ব নেওয়ার এক থেকে আড়াই বছরের মধ্যেই চাকরি হারান। ২০১৭ সালে মোনাকো থেকে ধারে পিএসজিতে যোগ দিয়ে পরের বছর স্থায়ীভাবে চুক্তিবদ্ধ হন এমবাপ্পে এবং ছয় মৌসুম সেখানে কাটান।

২০২৪ সালে স্পেনে পা রাখার পর এই ধারা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রিয়াল মাদ্রিদে দেড় বছরের ব্যবধানে দুজন কোচের বিদায় ঘটে—প্রথমে কার্লো আনচেলত্তি এবং সর্বশেষ জাবি আলোনসো। ২০১৫ সালে মোনাকোতে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করা এমবাপ্পে গত এক দশকে (রিয়ালের নতুন কোচ আরবেলোয়াসহ) মোট নয়জন কোচের অধীনে খেলেছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭ সালের পর থেকে গড়ে প্রতি ১ দশমিক ৪ বছরে একজন করে নতুন কোচ পেয়েছেন এমবাপ্পে। কোচ পরিবর্তনের এই ধারাবাহিকতা দলগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি করেছে এবং মাঠের ভেতরেও প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আলোনসোর বিদায়ের পর রিয়াল ড্রেসিংরুমে তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষের কথাও প্রকাশ্যে এসেছে। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ক্লাব বিশ্বকাপের সময় থেকেই কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলোনসোর সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। অনেকেই তাঁর কৌশল ও পরিকল্পনার সঙ্গে একমত ছিলেন না।

সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, এমবাপ্পে, আরদা গুলের, চুয়ামেনি, সেবায়োস ও আসেনসিও আলোনসোর প্রতি আস্থা রাখলেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ফেদে ভালভের্দে ও জুড বেলিংহামের মতো তারকারা তাঁকে পুরোপুরি সমর্থন করেননি। এই অনাস্থাই শেষ পর্যন্ত আলোনসোর ছাঁটাইয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে জুড বেলিংহাম এসব গুঞ্জন সরাসরি অস্বীকার করেছেন। নিজের অফিসিয়াল অ্যাপ জেপি৫-এ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আলোনসোর ওপর তাঁর অনাস্থার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে বেলিংহাম বলেন, ক্লিক আর অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরির জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সত্য থেকে অনেক দূরে।

-আফরিনা সুলতানা/