হাতঘড়ি এখন শুধু সময় দেখার যন্ত্র নয়, ছেলেদের স্টাইল ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। পোশাক যেমন একজন পুরুষের রুচি বোঝায়, ঠিক তেমনি হাতের ঘড়ি তার মানসিকতা, লাইফস্টাইল ও ফ্যাশন সেন্সের ইঙ্গিত দেয়। অফিস, পার্টি, ক্যাজুয়াল আড্ডা কিংবা স্পোর্টস—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘড়ির আলাদা ভূমিকা রয়েছে।
ছেলেদের স্টাইলের সঙ্গে হাতঘড়ির সম্পর্কটা অনেকটা নীরব ভাষার মতো। কেউ খুব বড় ডায়াল আর মোটা স্ট্র্যাপের ঘড়ি পরলে তাকে সাধারণত আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী ভাবা হয়। আবার স্লিম ডায়াল ও লেদার স্ট্র্যাপের ঘড়ি পরা মানে পরিমিত, মার্জিত ও ক্লাসি রুচি। অনেক সময় কথা বলার আগেই হাতের ঘড়ি একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা দিয়ে দেয়।
ক্যাজুয়াল স্টাইলে ছেলেরা একটু এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন। জিন্স, টি-শার্ট বা শার্টের সঙ্গে রাবার বা ক্যানভাস স্ট্র্যাপের ঘড়ি বেশ ভালো মানায়। রঙিন ডায়াল বা ইউনিক ডিজাইনের ঘড়ি ক্যাজুয়াল লুকে আলাদা আকর্ষণ যোগ করে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা ঘোরাঘুরির সময় এই ধরনের ঘড়ি ছেলেদের স্টাইলকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
ফর্মাল স্টাইলে হাতঘড়ির গুরুত্ব আলাদা। অফিস বা অফিসিয়াল মিটিংয়ের জন্য সাধারণত মেটাল বা লেদার স্ট্র্যাপের ক্লাসিক ঘড়ি সবচেয়ে মানানসই। সাদা বা হালকা রঙের ডায়াল, সিম্পল ডিজাইন—এই ধরনের ঘড়ি পরলে পোশাকের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় থাকে। খুব ঝলমলে বা বড় ডিজাইনের ঘড়ি ফর্মাল লুকে অনেক সময় বেমানান দেখায়।
স্পোর্টস বা অ্যাকটিভ লাইফস্টাইলের ছেলেদের জন্য স্পোর্টস ওয়াচ বা স্মার্টওয়াচ এখন খুব জনপ্রিয়। এই ঘড়িগুলো শুধু সময়ই দেখায় না, বরং হার্ট রেট, স্টেপ কাউন্ট, ক্যালোরি বার্নের মতো তথ্যও দেয়। যারা নিয়মিত জিম করেন বা দৌড়ান, তাদের জন্য এই ঘড়ি স্টাইলের পাশাপাশি ব্যবহারিক দিক থেকেও বেশ কার্যকর।
হাতঘড়ি বাছাইয়ের সময় শুধু দাম নয়, নিজের হাতের গড়ন ও ব্যক্তিত্বের কথাও ভাবা জরুরি। পাতলা হাতে খুব বড় ডায়ালের ঘড়ি ভালো নাও লাগতে পারে, আবার মোটা হাতে খুব ছোট ডায়াল হারিয়ে যেতে পারে। তাই নিজের হাতে যেটা মানানসই, সেটাই সবচেয়ে স্টাইলিশ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ছেলেদের স্টাইলের সঙ্গে হাতঘড়ির সম্পর্ক খুব গভীর। সঠিক ঘড়ি একজন সাধারণ লুককেও আলাদা করে তুলতে পারে। ফ্যাশন বদলালেও একটি ভালো হাতঘড়ি বছরের পর বছর স্টাইলের সঙ্গী হয়ে থাকতে পারে। তাই ট্রেন্ডের পাশাপাশি নিজের রুচি ও প্রয়োজন বুঝে হাতঘড়ি বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
-বিথী রানী মণ্ডল










