সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ১০ নম্বর খেশরা ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগে আসছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়, ফলে মাসের পর মাস ফসলি জমিতে চাষাবাদ বন্ধ থাকে। এর প্রভাব পড়ে এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবিকায়, দেখা দেয় অভাব-অনটন।
খেশরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম লেয়াকত হোসেন জানান, এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে তালা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। খাল খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের পথ তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ওবায়দুর রহমান মিঠু বলেন, প্রতি বছর তার ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম পানির নিচে চলে যায়। খালগুলো পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি বের হওয়ার সুযোগ না থাকায় এই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা রথীন্দ্র নাথ হালদার জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে খেশরা ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ইউনিয়নের অন্তত চার থেকে পাঁচটি গ্রাম দীর্ঘ সময় ধরে পানিতে ডুবে থাকে। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকাই এই সংকটের মূল কারণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসন ও শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে সমিতির উদ্যোগে খাল খননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পলি জমে খালটি ভরাট থাকায় কৃষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। খননকাজ শেষ হওয়ায় এখন বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হচ্ছে এবং শত শত একর জমিতে কৃষকরা স্বাভাবিকভাবে চাষাবাদ করতে পারছেন। এরই মধ্যে চলতি মৌসুমে কৃষকরা ভালো আমন ধানের ফলন পেয়েছেন।
এলাকার কৃষকরা জানান, খাল খননের ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে তারা মুক্তি পাবেন। তারা এই উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সমিতি কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, খননকাজ শেষ হলেও খালের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পাড় বাঁধাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে এলাকার মানুষ এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে পারে।
-মোঃ ইমন ইসলাম,সাতক্ষীরা/










