ওসমান হাদি হত্যা মামলা: চার্জশিটে অসন্তোষ, বাদীর ‘নারাজি’ দাখিল

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) পর্যালোচনার পর তীব্র অসন্তোষ জানিয়ে আদালতে ‘নারাজি’ দাখিল করেছেন মামলার বাদী। অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা বা নেপথ্যের কুশীলবদের নাম আড়ালে রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ও মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এই নারাজির আবেদন জমা দেন। বাদীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, এই অভিযোগপত্রটি অত্যন্ত দায়সারা এবং এর মাধ্যমে হাদি হত্যার মূল অপরাধী কিংবা ঘটনার প্রকৃত রহস্য ‘উন্মোচিত হয়নি’। মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত না করেই তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে অটোরিকশায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে পল্টন বক্স কালভার্ট এলাকায় দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে ১৮ ডিসেম্বর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আদালতে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদকে (৩৭)। অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন:
১. ফয়সাল করিম মাসুদ (প্রধান অভিযুক্ত), ২. মো. হুমায়ুন কবির (পিতা), ৩. হাসি বেগম (মাতা), ৪. সাহেদা পারভীন সামিয়া (স্ত্রী), ৫. ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (শ্যালক), ৬. মারিয়া আক্তার লিমা (বান্ধবী), ৭. মো. কবির, ৮. মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ৯. সিবিয়ন দিউ, ১০. সঞ্জয় চিসিম, ১১. মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু, ১২. মো. ফয়সাল (অস্ত্রসহ ধৃত), ১৩. মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ, ১৪. সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ১৫. ফিলিপ স্নাল, ১৬. মুক্তি মাহমুদ ও ১৭. জেসমিন আক্তার।
এদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ শেষ পাঁচজন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগপত্রে ডিবি পুলিশ উল্লেখ করেছে, হাদির রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং ভোটারদের মধ্যে ভীতি ছড়াতে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করে।
তবে বাদীপক্ষের দাবি, এই ১৭ জনের বাইরেও হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও শক্তিশালী কোনো পক্ষ বা পরিকল্পনাকারী রয়েছে যাদের শনাক্ত করা হয়নি। এ কারণেই আদালতকে চার্জশিট গ্রহণ না করে মামলাটি পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
লামিয়া আক্তার