মহাবিশ্বের আদিযুগ থেকে আসা আলোর সংকেত ঘিরে রহস্য

মহাবিশ্বের সুদূর অতীত থেকে পৃথিবীতে পৌঁছানো মাত্র ১০ সেকেন্ডের একটি আলোর সংকেত বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সংকেতটি প্রায় হাজার ৩০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে এসেছে। বর্তমানে এর সঠিক উৎস নির্ণয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষকদের মতে, এই আলোর সংকেতটি সম্ভবত একটি সুপারনোভা, অর্থাৎ বিশাল কোনো মৃত তারার বিস্ফোরণ থেকে উৎপন্ন হয়েছে। বিস্ফোরণটি ঘটেছিল এমন এক সময়ে, যখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল মাত্র ৭৩ কোটি বছর। মহাকাশে কোনো বস্তু যত দূরে থাকে, তার আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে তত বেশি সময় লাগে। ফলে এই সংকেত দেখা মানে মহাবিশ্বের একেবারে আদিযুগের কোনো ঘটনা বর্তমান সময়ে প্রত্যক্ষ করা যেন সময়ের মধ্যে ফিরে গিয়ে অতীত দেখা।

আদিযুগের সবচেয়ে প্রাচীন বিস্ফোরণ?

এই উচ্চশক্তির আলোকবিস্ফোরণকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন জিআরবি ২৫০৩১৪এ (GRB 250314A) তাঁদের বিশ্বাস, এটি হতে পারে এখন পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া আদি মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সুপারনোভা বিস্ফোরণ।

এটি ছিল একটি গামারে বার্স্ট, যা মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিকিরণগুলোর একটি। গামা রশ্মি মানুষের চোখে দেখা যায় না, তবে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সাধারণত বিশাল তারার বিস্ফোরণের সময় উজ্জ্বল ঝলক হিসেবে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

বিরল রোমাঞ্চকর আবিষ্কার

নেদারল্যান্ডসের র‍্যাডবাউড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু লেভান জানান, গত ৫০ বছরে মহাবিশ্বের প্রথম ১০০ কোটি বছরের মধ্যে এমন গামারে বার্স্ট খুব কমই শনাক্ত হয়েছে। তাই এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের জন্য অত্যন্ত বিরল রোমাঞ্চকর।

সংকেতটি প্রথম শনাক্ত করা হয় ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ। গভীর মহাকাশ থেকে আসা এই উচ্চশক্তির আলোর ঝলকটি ধরা পড়ে স্পেস ভ্যারিয়েবল অবজেক্টস মনিটর স্যাটেলাইটে।

পৃথিবীর জন্য ঝুঁকি ছিল না

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, এটি ছিল গামা রশ্মির একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী বিস্ফোরণ। গামা রশ্মি মানুষের শরীর ডিএনএ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম হলেও, এত বিপুল দূরত্ব পাড়ি দিয়ে আসার ফলে এর শক্তি অনেকটাই কমে যায়। তাই এই সংকেত পৃথিবীর মানুষের জন্য কোনো বিপদের কারণ হয়নি।

অতীত জানার নতুন জানালা

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই ধরনের সংকেত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মহাবিশ্বের জন্মপরবর্তী সময়, প্রথম তারার সৃষ্টি তাদের মৃত্যু সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। আদিযুগের এই আলো যেন মহাবিশ্বের ইতিহাস জানার এক নতুন জানালা খুলে দিয়েছে।

সূত্র: ডেইলি মেইল

-এমইউএম