অফিসে দুপুরের ঝিমুনিতে সতেজ থাকার উপায়

ঘড়ির কাঁটা দুপুর ২টার দিকে গেলেই চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে—এই অভিজ্ঞতা অফিসে কাজ করা প্রায় সবারই পরিচিত। কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ মনে হয়, এই বুঝি মনিটরের ভেতর ঢুকে ঘুমিয়ে পড়ি। পাশে বসা সহকর্মী এক হাতে মাউস, অন্য হাতে কফি নিয়ে দিব্যি কাজ করে যাচ্ছেন। আর আপনি ভাবছেন, মাত্র ৫ মিনিট চোখ বন্ধ করলে এমন কী ক্ষতি হবে? কিন্তু অফিস তো আর বেডরুম না। তাই অফিসে বসে ঘুম পেলে কী করবেন—চলুন জানা যাক কয়েকটা মজার কিন্তু কার্যকর উপায়।

অনেকে ভাবেন কফিই সব সমস্যার সমাধান। কিন্তু তৃতীয় কাপ কফির পরও যদি চোখ বন্ধ হয়ে আসে, বুঝতে হবে সমস্যা ক্যাফেইনের নয়, ক্লান্তির। এ সময় কফির মগ হাতে নিয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করুন। জানালার পাশে দাঁড়ান, লিফটের সামনে গিয়ে দু’এক মিনিট সময় কাটান। সহকর্মীদের সঙ্গে হালকা গল্প করলেও মন ঘুমের দিক থেকে সরে আসে।

ধরুন, হঠাৎ বসের ডাক। চোখ খুলে ভড়কে গেলেন? ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সঙ্গে সঙ্গে এমন ভাব ধরুন, যেন আপনি গভীর কোনো গুরুত্বপূর্ণ চিন্তায় ডুবে ছিলেন। আত্মবিশ্বাসটাই এখানে আসল অস্ত্র। অনেক সময় আত্মবিশ্বাসই আপনাকে বাঁচিয়ে দেয়।

ঘুম আসলে শরীর অলস হয়ে পড়ে। এই সময় কিবোর্ডে একটু জোরে জোরে টাইপ করুন। কাজের না হলেও দুই-চার লাইন লিখুন। হাতের নড়াচড়া আর শব্দ মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে।

মিটিং আর ঘুম—এই দুটো একসঙ্গে হলে বিপদ নিশ্চিত। মিটিংয়ে ঘুম পেলে প্রথম কাজ, সুযোগ পেলে ওয়াশরুমে গিয়ে চোখে-মুখে পানি দেওয়া। এতে কিছুটা সতেজ লাগবে। আর যদি তাতেও কাজ না হয়, নোট নেওয়ার ভান করুন। কী লিখছেন, সেটা তখন বড় বিষয় না—লেখার প্রক্রিয়াটাই আপনাকে জাগিয়ে রাখবে।

একটা  কিন্তু কার্যকর উপায় হলো—ওয়াশরুমে গিয়ে আয়নায় নিজের সঙ্গে কথা বলা। নিজের চোখে তাকিয়ে বলুন, “আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা, তারপর বাসা।” এই ছোট্ট মোটিভেশনাল কথা অনেক সময় আশ্চর্যভাবে কাজ করে।

দুপুরের খাবারের পর ঘুম ঘুম লাগার পেছনে বিজ্ঞান আছে। একে বলে ‘ভাতঘুম’। খাবারের পর শরীর হজমের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, ফলে ঝিমুনি আসে। এটা আলসেমি নয়। তাই নিজেকে দোষ না দিয়ে কাজগুলো একটু ভাগ করে নিন—হালকা কাজ আগে, কঠিন সিদ্ধান্ত পরে।

সবশেষে মনে রাখুন, অফিসে ঘুম ঘুম লাগা মানেই আপনি অলস নন। এর মানে আপনি মানুষ। কম ঘুম, বেশি স্ক্রিন, কাজের চাপ—সব মিলিয়েই এটা স্বাভাবিক। তবে দীর্ঘমেয়াদে সমাধান চাইলে নিয়মিত ঘুম, পর্যাপ্ত পানি পান, ভারী খাবার কমানো আর দিনে একটু নড়াচড়া—এই চারটিই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

-বিথী রানী মণ্ডল