আইসিটি খাতে সংস্কার অব্যাহত থাকবে: ফয়েজ আহমদ

ছবি: সংগৃহীত

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার এই খাতে কোনো সমস্যা ঝুলিয়ে রাখছে না; বরং দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি প্রত্যাশা করেন, বর্তমান সরকারের শুরু করা এসব সংস্কার ভবিষ্যৎ সরকারও জনস্বার্থে অব্যাহত রাখবে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ আয়োজিত ‘আইসিটি ও টেলিকম খাতের সংস্কারনামা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (টিআইপিএপি)।

মোবাইল ফোনের শুল্ক কমার পরও বাজারে দাম না কমা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, শুল্ক হ্রাসের প্রভাব বাজারে আসতে কিছুটা সময় লাগে। প্রজ্ঞাপন জারির পরদিনই দাম কমবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ নতুন এলসি খোলা, কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ‘লিড টাইম’ রয়েছে। সাধারণত দুই থেকে তিন মাস পর নতুন এলসির পণ্য বাজারে এলে ভোক্তারা এর সুফল পেতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, পরবর্তী সরকার এসে বর্তমান উদ্যোগ বাতিল করে দিতে পারে—এই আশঙ্কায় সরকার সংস্কার থেকে পিছিয়ে থাকবে না। প্রতিটি নীতিমালা ও সিদ্ধান্ত যুক্তির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং তা ব্যাখ্যা ও প্রতিরক্ষা করার সক্ষমতা সরকারের রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার প্রকল্পনির্ভর চিন্তার বদলে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলায় গুরুত্ব দিচ্ছে।

সম্প্রতি প্রায় ৮৮ লাখ সিম বন্ধ হওয়া নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তি দূর করে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, একজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি সিম রাখার যে তথ্য প্রচারিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। মন্ত্রণালয় থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বরং একজন গ্রাহকের নামে সর্বোচ্চ ১০টি সিম ব্যবহারের অনুমতি বহাল রয়েছে।

তিনি জানান, বন্ধ হওয়া ৮৮ লাখ সিমের মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশই ছিল দীর্ঘদিন অব্যবহৃত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনের লক্ষ্যে মূলত একজনের নামে ১০টির বেশি অতিরিক্ত সিমই বাতিল করা হয়েছে।

বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন বিটিআরসির কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ, টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, আইসিটি সেক্টর দুর্নীতি বিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ এবং বাক্কোর সভাপতি তানভীর ইব্রাহিম। বক্তারা আইসিটি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শ্বেতপত্রের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

-সাবরিনা রিমি