ইরানে চলমান সংকট ও দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলার প্রসঙ্গে নমনীয় কিন্তু স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া। ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা টেনে মস্কো জানিয়েছে, শক্তি প্রদর্শন বা সামরিক হুমকি নয় ইরানের সংকটের সমাধান হওয়া উচিত কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমেই।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলার হুমকি সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপের’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মস্কো।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ইরান অবৈধ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার শিকার। এসব নিষেধাজ্ঞা দেশটির উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে এবং সাধারণ ইরানিদের ওপর গুরুতর অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
মারিয়া জাখারোভা আরও বলেন, শত্রুতাপূর্ণ বহিরাগত শক্তিগুলো ইরানে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ সামাজিক উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে দেশটিকে অস্থিতিশীল করা এবং ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংস অস্থিরতা, পোগ্রাম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষের হত্যাকাণ্ডে রূপ দিতে তথাকথিত ‘কালার রেভোলিউশন’ কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে।
জাখারোভা আরও বলেন, ইরানের বৈদেশিক অংশীদারদের ওপর বাণিজ্য শুল্ক বাড়িয়ে চাপ প্রয়োগ বা ব্ল্যাকমেইল করার যে ‘অহঙ্কারী প্রচেষ্টা’ চালানো হচ্ছে, রাশিয়া তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, যারা পরিকল্পিতভাবে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে সামরিক পদক্ষেপ নিতে চায়, তাদের অবশ্যই এসব কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য ‘বিধ্বংসী পরিণতি’ সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত।
সূত্র: শিনহুয়া নেট
-এমিউএম









