বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর থেকেই প্রাক্তন অভিনেত্রী সেলিনা জেটলির ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা এবং প্রাপ্ত কষ্ট নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। সেলিনার স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে তিক্ত অভিজ্ঞতার এক অদ্ভুত অধ্যায়, যা তাঁর দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনকে এক চরম পরীক্ষার মুখোমুখি করেছে। বিশেষ করে, ১৫তম বিবাহবার্ষিকীর দিন যে ঘটনা ঘটে, তা তাঁর জীবনের সবচেয়ে ব্যথিত মুহূর্তগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে মনে রেখেছেন।
সেলিনা আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনার পর তিনি এক অজানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর রাত ১টায় প্রতিবেশীদের সাহায্য নিয়ে অস্ট্রিয়া ত্যাগ করতে বাধ্য হন। নিজের সম্মান, সন্তান এবং ভাইকে রক্ষা করতে নিজের দেশ ছেড়ে বের হওয়া ছাড়া তাঁর আর কোনো উপায় ছিল না। খুব সামান্য অর্থ নিয়ে তিনি ভারতে ফিরে আসেন এবং নতুন করে জীবন শুরু করতে বাধ্য হন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে একটি গভীর মানসিক আঘাত সৃষ্টি করেছে।
সেলিনা জানিয়েছেন, বিবাহবার্ষিকীর সেই সকালে তিনি ঘুণাক্ষরে টের পাননি যে, স্বামী পিটার তাঁর সঙ্গে এমন বড় প্রতারণা করতে যাচ্ছেন। স্বাভাবিক ভাবেই বিশেষ দিনে তিনি আনন্দ এবং উচ্ছ্বাসের মধ্যে থাকার কথা ভাবতেন। কিন্তু পিটার একটি চক্রান্তপূর্ণ পদ্ধতিতে তাঁকে উপহারের টোপ দিয়ে পোস্ট অফিসে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর হাতে সেলিনা একেবারে হঠাৎ করেই বিচ্ছেদের নোটিস তুলে দেন। নিজের অনুভূতির প্রতি একেবারেই অসম্মান দেখানো এবং বিশেষ দিনটিকে কেবল ছেলেখেলার মতো ব্যবহার করা—সেলিনা এই পুরো ঘটনাকে “পরিকল্পিত” আখ্যা দিয়েছেন।
তবে সেলিনা শুধু নিজেকে নিরাপদ করতে পারেননি, বরং পারিবারিক ও আইনি লড়াইও চালিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, অস্ট্রিয়ার পারিবারিক আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তাঁকে দেওয়া হচ্ছে না। তিন সন্তানের প্রতিপালনের অধিকার থেকেও তিনি বঞ্চিত। সেলিনা লিখেছেন, “আমার হৃদয় ভেঙে গিয়েছে।” এদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে সন্তানদের উস্কানি দেওয়া হচ্ছে, এমনও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সেলিনার এই বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং ভক্তদের মধ্যে সহমর্মিতা, উদ্বেগ ও সমর্থনের ঢেউ তৈরি করেছে। একজন মা হিসেবে নিজের সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা, মানসিক আঘাত এবং বিচ্ছেদের প্রভাব—সবকিছুকে তিনি প্রকাশ করেছেন খোলাখুলি। এই কাহিনী শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, বরং অনেকের জন্য এটি মাতৃত্ব, আইনি লড়াই এবং সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্যে একজন নারীর সাহসিকতার প্রতীক।
সব মিলিয়ে, সেলিনা জেটলির অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, ব্যক্তিগত জীবন কখনও কখনও কতটা অপ্রত্যাশিত এবং ব্যথাদায়ক হতে পারে। অথচ এই পরিস্থিতিতেও তিনি নিজের কণ্ঠ উচ্চ রাখছেন, সত্য প্রকাশ করছেন এবং নতুন জীবনের জন্য দৃঢ় মনোভাব দেখাচ্ছেন। এটি অনেকেই অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখছেন।
বিথী রানী মণ্ডল/










