মলয় কুমার গাঙ্গুলীর জন্ম ১৯৪৬ সালে নেত্রকোনার কেন্দুয়ার মোজাফফরপুর গ্রামে। তার অবদান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলার মুক্তিযুদ্ধের এক প্রখ্যাত কণ্ঠযোদ্ধা এবং লোকসংগীতশিল্পী মলয় কুমার গাঙ্গুলী আর নেই। ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাত ৯টা ২০ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
মলয় কুমার গাঙ্গুলীর মরদেহ গতকাল রাত ২টায় ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা হয়েছে। একমাত্র মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকায় আজ রাতে তিনি দেশে ফিরবেন; এরপর শেষকৃত্যের তারিখ ও ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মুক্তিযুদ্ধকালীন কলকাতায় গিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগ দেন মলয় কুমার গাঙ্গুলী। সেখানেই তিনি এস এম আবদুল গণি বোখারীর লেখা ও সুরে ‘ওরে ও বাঙালি আর কতকাল থাকবি ঘুমেতে হইয়া বিভোর’ গানটি এককভাবে পরিবেশন করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিলেন।
মলয় কুমার গাঙ্গুলীর মৃত্যুতে একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা তিমির নন্দী শোক প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, “আমরা দিনে দিনে খুব একা হয়ে যাচ্ছি। এই শূন্যতা পূরণ হবার নয়। যেখানে আছেন, ভালো থাকুন, মলয়দা। দেশের জন্য আপনার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
তিনি চলচ্চিত্র জগতে ‘পুত্রবধূ’ সিনেমায় ‘গুরু উপায় বলো না’ গান পরিবেশন করে দর্শক মহলে সাড়া ফেলেছিলেন। এছাড়াও ‘আমার মনতো বসে না’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমার গানে তার কণ্ঠ শোনা গেছে। আলোচিত গান ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই’–এর সুর ও গাওয়ায় মলয় কুমার গাঙ্গুলী বিশেষ পরিচিত ছিলেন; পরবর্তী সময়ে গানটি সাবিনা ইয়াসমীনও গেয়েছেন।
বিথী রানী মণ্ডল/










