রোবিন রিহানা ফেন্টি, ১৯৮৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বার্বাডোসে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব সহজ ছিল না। পরিবারে বাবা রোনাল্ড ফেন্টি একজন সেলসম্যান ছিলেন এবং মা মোনিকা ফেন্টি একটি গ্রোসারি স্টোরে কাজ করতেন। রিহানার দুই ভাই এবং এক বোনের সঙ্গে পরিবারের জীবন অনেকটা আর্থিকভাবে সীমিত ছিল। ছোটবেলায় পরিবারের আর্থিক চাপ এবং বাবার মাদকাসক্তি রিহানাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে শেখায়।
শৈশব থেকেই রিহানা সঙ্গীত এবং নৃত্যের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি গান এবং নাচের মাধ্যমে তার প্রতিভা প্রকাশ করতেন। শিক্ষকরা লক্ষ্য করতেন যে রিহানার ভয়ঙ্কর প্রতিভা রয়েছে, এবং এই প্রতিভাই তাকে তার কঠিন শৈশবের মধ্য দিয়ে একটি নতুন আশার আলো দেখায়। ২০০৩ সালে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে, তিনি মার্কাস টেম্পল এবং কার্লসটন রিজের মতো প্রোডিউসারদের সঙ্গে একটি অডিশনে অংশ নেন এবং অবশেষে তার প্রতিভা ধরা পড়ে।
২০০৫ সালে রিহানা তার প্রথম অ্যালবাম মিউজিক অফ দী সান প্রকাশ করেন। এটি কমার্শিয়ালভাবে সফল হয় এবং তাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিতি এনে দেয়। পরবর্তী অ্যালবাম এ গার্ল লাইক মি (২০০৬) এবং গুড গার্ল গন বেড (২০০৭) তাকে বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত করে। বিশেষ করে “আমব্রেলা”গানটি তাকে সঙ্গীত জগতে এক আইকনিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।
রিহানার সঙ্গীত জীবনের সফলতা তাকে বড় আয় উপার্জনের পথ দেখায়। ২০০০ এর দশকের শেষের দিকে এবং ২০১০ এর প্রথমদিকে রিহানা একাধিক হিট অ্যালবাম, একক গান, এবং বিশ্বব্যাপী কনসার্ট থেকে উল্লেখযোগ্য আয় অর্জন করেন। তার গানের আয় ছাড়াও, ফ্যাশন এবং প্রসাধনী শিল্পে প্রবেশ তাকে সম্পদের দিক থেকে আরও শক্তিশালী করে। তিনি ২০১৭ সালে তার নিজের বিউটি লাইন ফেন্টি বিউটি প্রতিষ্ঠা করেন, যা মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই বিশাল সফলতা পায়। ফেন্টি বিউটি এর আয় এবং ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব রিহানাকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী সেলিব্রিটির একজনে পরিণত করে।
রিহানা তার জীবনেই বহু পুরস্কার এবং সম্মান অর্জন করেছেন। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড, মার্কিন মিউজিক অ্যাওয়ার্ড, এবং বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড-এর মতো সম্মানসূচক পুরস্কার তাকে সঙ্গীত জগতে বিশিষ্ট করেছে। পাশাপাশি তিনি ফ্যাশন, ব্যবসা, এবং মানবিক কাজেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। চ্যারিটি এবং মানবিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ, যেমন তার ক্লারা লিয়নেল ফাউন্ডেশন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
রিহানার জীবন হলো সংগ্রাম, প্রতিভা এবং অধ্যবসায়ের গল্প। কঠোর শৈশব থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে শিল্পী, ব্যবসায়ী এবং মানবিক নেত্রী হিসেবে তার পথচলা প্রমাণ করে যে প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রমে কেউ জীবনের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে পারে। সঙ্গীত, ব্যবসা এবং সামাজিক কাজের মাধ্যমে রিহানা শুধু বিনোদন জগতে নয়, বরং সমগ্র বিশ্বে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন।
-বিথী রানী মণ্ডল










