ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘আপত্তিকর’ ভিডিও, ক্ষুব্ধ শিল্পা শেঠি

প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির ছবি ও ভিডিও বিকৃত করার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনাও সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে আইনি সুরক্ষার জন্য বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিল্পা শেঠির বিকৃত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এসব কনটেন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার চেহারা, কণ্ঠস্বর ও অঙ্গভঙ্গি নকল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নজরে আসার পরই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় আদালতে আবেদন জানান অভিনেত্রী।

তার অনুমতি ছাড়াই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য প্রযুক্তির সাহায্যে অসংখ্য বিকৃত ছবি, ভিডিও এবং এমনকি ডিজিটাল বই তৈরি করা হয়েছে। এসব কনটেন্ট বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ায় তার ব্যক্তিগত জীবন এবং সামাজিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি জানান, একজন নারী হিসেবে এ ধরনের ডিজিটাল হেনস্তা তার জন্য অত্যন্ত মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিল্পা শেঠির দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে বোম্বে হাইকোর্ট দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আদালত সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সোশ্যাল মিডিয়াগুলোকে অবিলম্বে এসব আপত্তিকর কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। আদালতের এই পদক্ষেপে প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং সাইবার অপরাধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মামলার শুনানিতে বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনা পুরো ঘটনাটিকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তার ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য এভাবে বিকৃত করে জনসমক্ষে ছড়িয়ে দেওয়া গুরুতর অপরাধ। বিচারপতি আরও বলেন, নারী বা পুরুষ—কোনো মানুষকেই এভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে হেনস্তা করার অধিকার কারও নেই।

শিল্পা শেঠির পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া বিকৃত ছবি ও ভিডিওর স্ক্রিনশট পর্যালোচনা করে বিচারপতি সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কনটেন্ট পুনরায় আপলোড হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই মামলা কেবল একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধে আইন প্রয়োগের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে এই ঘটনার মাধ্যমে।

সব মিলিয়ে, শিল্পা শেঠির আইনি পদক্ষেপ প্রযুক্তির অন্ধকার দিকের বিরুদ্ধে এক শক্ত বার্তা দিচ্ছে—ডিজিটাল দুনিয়াতেও ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা সমানভাবে সুরক্ষিত থাকা জরুরি।

বিথী রানী মণ্ডল/