ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের পুর্ব পাড়ার ছাতিকামলা পাড় এলাকায় বিয়ে বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বশত্রুতার জের ধরে রমজান মিয়ার সমর্থিত লোকের উপর জিতু মিয়ার লোকজন হামলা চালায় এতে করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১, অর্ধশতাধিক আহত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১২ জানুয়ারি বিকেল ৪ ঘটিকায় ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসির নগর উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের ছাতিকামলা পাড়ে একটি বিয়ে বাড়ীতে দাওয়াত খেয়ে বাড়ী ফেরার পথে করে রমজান মিয়া গোষ্ঠীর ও জিতু মিয়ার গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধ- শতাধিক লোক আহত -১ জন নিহত হয়েছে।
জানা গেছে, ধরমন্ডল ইউনিয়নের পুর্ব গ্রামের ছাতি কামলাপাড় এলাকায় প্রভাবশালী দুই পক্ষ রমজানও জিতু মিয়ার গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
সোমবার ১২ জানুয়ারি বিকালে বিয়ে বাড়ীতে দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে নারী-পুরুষ অর্ধশতাধিক আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে মাধবপুর ও হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। গুরুতর আহত জিতু মিয়া (৬৫)কে হবিগঞ্জ হাসপাতালে নেয়ার পথের মধ্যে মৃত্যু ঘটে।
খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। তবে সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ও
বিপুল সংখ্যক দাঙ্গাকারীর সামনে পুলিশ হিমশিম খায় এবং এক পর্যায়ে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে গেলে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের অনুরোধে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করলে সংঘর্ষকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। বর্তমানে এলাকায় সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নাসিরনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ শাহিনুল ইসলাম বলেন,
এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে এবং দোষীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খ,ম,জায়েদ হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া










