শিশুদের স্ক্রিনে টাইম কমানোর উপায়

ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল যুগে শিশুদের জীবন থেকে মোবাইল ফোন বা অন্যান্য স্ক্রিন পুরোপুরি বাদ দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। তবে নিয়ন্ত্রণহীন স্ক্রিনটাইম শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের দৈনন্দিন জীবনে একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করা স্ক্রিনটাইম কমানোর প্রথম ধাপ। পড়াশোনা, খেলাধুলা ও বিশ্রামের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ থাকলে শিশু স্বাভাবিকভাবেই মোবাইলের ওপর নির্ভরতা কমায়। বিশেষ করে শোবার আগে মোবাইল ব্যবহার বন্ধ রাখলে ঘুমের মান ভালো হয় এবং পরদিন মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।

স্ক্রিনের বিকল্প হিসেবে শিশুদের বই পড়া, ছবি আঁকা, গল্প শোনা কিংবা খেলার মাঠে সময় কাটানোর সুযোগ দিতে হবে। এসব কার্যক্রম শিশুদের কল্পনাশক্তি ও সামাজিক দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা যদি একসঙ্গে কিছু সময় মোবাইল ছাড়া কাটান, তাহলে শিশুরা সেটিকে স্বাভাবিক অভ্যাস হিসেবে গ্রহণ করে।

অভিভাবকদের নিজের ব্যবহারও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। ঘরে বাবা–মা যদি সারাক্ষণ মোবাইল হাতে রাখেন, তাহলে শিশুদের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সন্তানকে শেখানোর আগে নিজের আচরণে পরিবর্তন আনা জরুরি।

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। মোবাইল ও ট্যাবের প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় ও অ্যাপ ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করলে শিশুর অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন ব্যবহার কমে আসে। তবে এতে কঠোরতা নয়, বরং বোঝাপড়া ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ বেশি কার্যকর।

চিকিৎসক ও শিশুবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্ক্রিনটাইম কমাতে হঠাৎ নিষেধাজ্ঞার চেয়ে ধীরে ধীরে অভ্যাস পরিবর্তনই সবচেয়ে ভালো ফল দেয়। সচেতন অভিভাবকত্ব ও সময়োপযোগী নির্দেশনার মাধ্যমে শিশুদের একটি স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব।

-সাবরিনা রিমি