প্রিমিয়াম আইফোনে জোর দিচ্ছে অ্যাপল, স্ট্যান্ডার্ড মডেল আসতে পারে দেরিতে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরে আইফোন উৎপাদন ও সরবরাহ কৌশলে বড় পরিবর্তনে যাচ্ছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটি শুরুতেই উচ্চমূল্যের তিনটি প্রিমিয়াম আইফোন মডেলের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে অগ্রাধিকার দেবে। এর ফলে তুলনামূলক কম দামের স্ট্যান্ডার্ড আইফোন মডেল বাজারে আসতে দেরি হতে পারে বলে জানা গেছে।

নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপণন কৌশলে পরিবর্তন এবং সাপ্লাই চেইনের সীমাবদ্ধতার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে টেক জায়ান্টটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বড় পরিসরে নতুন আইফোন উন্মোচনের পরিকল্পনা করছে অ্যাপল। এই আয়োজনেই প্রথমবারের মতো ফোল্ডেবল আইফোন উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি ও বড় ডিসপ্লে সমৃদ্ধ দুটি প্রিমিয়াম নন-ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে আনার ইঙ্গিত মিলেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মেমোরি চিপসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় অ্যাপল এখন বেশি লাভজনক প্রিমিয়াম ডিভাইসের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। এতে করে কম সংখ্যক পণ্য বিক্রি করেও আয় ও মুনাফা বাড়ানো সম্ভব হবে।

এছাড়া ফোল্ডেবল আইফোন তৈরির জটিল উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে উদ্ভূত ঝুঁকি কমাতেও উচ্চমূল্যের মডেলগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

আইফোন সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা নিক্কেই এশিয়াকে জানান, চলতি বছরে সাপ্লাই চেইন স্থিতিশীল রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি অ্যাপলের নতুন বিপণন কৌশলও প্রিমিয়াম মডেলগুলোর ওপর জোর দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে এলে অ্যাপল ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন বাজারের সর্বোচ্চ ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত দখল নিতে পারে। উচ্চমূল্য সত্ত্বেও ‘আইফোন ফোল্ড’ এই খাতে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাজার গবেষণা সংস্থা আইডিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বছরেই আইফোন ফোল্ড বিশ্বব্যাপী ফোল্ডেবল ফোন বিক্রির ২২ শতাংশের বেশি এবং রাজস্বের দিক থেকে পুরো বাজারের প্রায় ৩৪ শতাংশ দখল করতে পারে।

সাবরিনা রিমি/