যুক্তরাষ্ট্র ‘ঘৃণ্য অপরাধী’ : কিম

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে ‘নির্লজ্জ, অবৈধ ও অনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। সোমবার (১২ জানুয়ারি) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের পিয়ং ইয়ং মিশন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে ‘ঘৃণ্য অপরাধী’ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন নিয়ে জাতিসংঘের একটি আলোচনার পরিকল্পনার প্রতিবাদে এই কড়া প্রতিক্রিয়া দেখালো কিম জং উন প্রশাসন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উত্তর কোরিয়ার এই প্রচণ্ড ক্ষোভের পেছনে মূল কারণ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার ঘটনা। মাত্র এক সপ্তাহ আগে মার্কিন বিশেষ বাহিনী এক ঝটিকা অভিযানে মাদুরোকে আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসে। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতাকে সরিয়ে দেওয়ার মার্কিন কৌশলকে ভয় পেয়ে আসছে। ফলে মাদুরোকে আটকের ঘটনা পিয়ং ইয়ংয়ের জন্য একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

উত্তর কোরিয়ার বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য জাতিসংঘকে হাতিয়ার হিসেবে অপব্যবহার করছে এবং বিশ্ব সংস্থাটির অস্তিত্বকেই অবজ্ঞা করছে। পিয়ং ইয়ংয়ের মতে, জাতিসংঘের উচিত তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার বদলে যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘জঘন্য ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ নিয়ে আলোচনা করা।

বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক ঘোষণারও কড়া সমালোচনা করা হয়। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট ৩১টি বডি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন, পিয়ং ইয়ং সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘একতরফা ও স্বার্থপর’ আচরণের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা উত্তর কোরিয়া এখন যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘আধিপত্যবাদী নীতি’র বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

-এম. এইচ. মামুন