বছরের শুরুতেই বড় ধরনের ধাক্কা খেল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)। সোমবার সকালে শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপিত পিএসএলভি সি-৬২ (PSLV C-62) রকেটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। এর ফলে মহাকাশেই হারিয়ে গেছে ১টি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট ও ১৫টি কো-প্যাসেঞ্জার উপগ্রহ মহাকাশে হারিয়ে গেছে।
২০২৬ সালের প্রথম মিশনেই এই ব্যর্থতাকে ইসরোর জন্য বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে সোমবার সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। মিশনের প্রথম দুটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলেও বিপত্তি ঘটে তৃতীয় ধাপে। মিশন কন্ট্রোলের প্রধান ভি নারায়ণন জানিয়েছেন, তৃতীয় ধাপটি শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে রকেটের গতিপথ (ট্রাজেক্টরি) বিচ্যুত হয়। ফলে এটি আর নির্ধারিত সূর্য সমলয় কক্ষপথে পৌঁছাতে পারেনি।
এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য ছিল ১,৬৯৬ কেজি ওজনের শক্তিশালী ‘ইওএস-এন১’ (EOS-N1) স্যাটেলাইটটিকে কক্ষপথে স্থাপন করা কিন্তু রকেটটি নিয়ন্ত্রণ হারানোয় সেটির পাশাপাশি ১৫টি কো-প্যাসেঞ্জার উপগ্রহও মহাকাশে হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে আছে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থার (DRDO) তৈরি অত্যন্ত গোপনীয় নজরদারি স্যাটেলাইট ‘অন্বেষা’, ভারতের শিক্ষার্থীদের তৈরি ‘সিজিইউস্যাট’ ও ‘ডিএসইউস্যাট’ এবং ব্রাজিলের ‘অলটুস্পেস’-এর ৫টি স্যাটেলাইট, নেপালের ‘মুনাল’ এবং স্পেন ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগের ‘কিড ক্যাপসুল’।
উল্লেখ্য, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও পিএসএলভি সিরিজের একটি রকেট উৎক্ষেপণের সময় ঠিক তৃতীয় ধাপেই যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছিল। পরপর দুই বছর একই পর্যায়ে ব্যর্থতা পিএসএলভি রকেটের কারিগরি নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। ইসরোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্ল্যাক বক্স ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
-এম. এইচ. মামুন










