মিয়ানমারের সেনাবাহিনী-সমর্থিত প্রধান রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) জান্তা-নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করেছে দলটির এক কর্মকর্তা। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও গণতন্ত্রপন্থী পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই নির্বাচন কার্যত সেনাশাসনকে আরও পোক্ত করবে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) ধাপে ধাপে এক মাসব্যাপী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করে জান্তা সরকার। সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
তবে ব্যালটে দেখা যায়নি নোবেলজয়ী গণতন্ত্রের প্রতীক অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দলকে। অভ্যুত্থানের পর থেকে সু চি কারাবন্দি রয়েছেন এবং তার দল বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই অভ্যুত্থানই দেশজুড়ে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের সূচনা করে।
নাইপিদোতে ইউএসডিপির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেন,
“বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী সারা দেশে ইউএসডিপি অধিকাংশ আসনে জয়ী হচ্ছে।”
এখনও পর্যন্ত মিয়ানমারের ইউনিয়ন ইলেকশন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করেনি। আগামী ১১ ও ২৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আরও দুই ধাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২০ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে অং সান সু চির দল এনএলডি বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করলেও সেই ফলাফল বাতিল করে সেনাবাহিনী ও ইউএসডিপি ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তোলে। যদিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সেই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোট দেওয়ার পর সামরিক শাসক মিন অং হ্লাইং দাবি করেন, সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা রাখা যায়। তিনি বলেন,
“আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করছি। এটি সেনাবাহিনী আয়োজন করেছে, আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া যাবে না।”
অভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং বহু জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে একত্রে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে।
২৮ ডিসেম্বরের ভোটগ্রহণ ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ১০২টিতে অনুষ্ঠিত হয়, যা তিন ধাপের নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে বড় পর্ব। তবে চলমান যুদ্ধের কারণে সংসদের নিম্নকক্ষের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসনে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয় বলে স্বীকার করেছে সেনাবাহিনী।
এম এম সি/










