জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা, উসকানি ও ষড়যন্ত্রসহ আটটি অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন পুলিশ কনস্টেবল মাসুদ রানা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলের অপর সদস্য হলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার নবম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মাসুদ রানা, যিনি বর্তমানে তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরি ও রেকর্ড শাখায় সহকারী হিসেবে কর্মরত। জবানবন্দিতে তিনি মামলার তদন্ত চলাকালে জব্দ করা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত, অডিও ও ভিডিও রেকর্ডের বিস্তারিত বিবরণ ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন। এসব নথিতে আন্দোলনের সময়কার উসকানিমূলক বক্তব্য ও ঘটনার চিত্র রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি এই মামলার অষ্টম সাক্ষীর জবানবন্দি ‘ক্যামেরা ট্রায়ালে’র (রুদ্ধদ্বার কক্ষ) মাধ্যমে নেওয়া হয়। সাক্ষীর জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই ব্যবস্থা নেন। ২৪ ডিসেম্বর এই মামলার সপ্তম সাক্ষী হিসেবে এক শহীদ পিতার সন্তান উপস্থিত হয়ে ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে হাসানুল হক ইনুর নির্দেশে পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডাররা নির্বিচারে গুলি চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ শহীদ হন। গত ২ নভেম্বর ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
এদিন কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাসানুল হক ইনুকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।