বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দেশের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, প্রকৃত অর্থে তিনি দেশের জনগণেরও নেতা ছিলেন। বেগম জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নেওয়া সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিই এটি প্রমাণ করে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের গুরুত্ব দেশবাসী ও নীতিনির্ধারকেরা উপলব্ধি করছে। তিনি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে স্বৈরশাসকের মিথ্যা মামলায় জুলুম নির্যাতনের শিকার হলেও বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপোষহীন। গণতন্ত্র রক্ষায় তার সংগ্রামী মনোভাবের জন্যই তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

তিনি সোমবার দুপুরে কাজীর দেউরী নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে মাঠে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ সাবেক ছাত্রদল ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল ও মাদরাসার ছাত্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক, মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবু বক্কর সিকদার ও মহসিন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবয়ক ইয়াকুব আলী সিফাতের পরিচালনায় এতে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সাবেক সধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

মেয়র বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মানবতার প্রতীক। দেশের মানুষের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করতেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দেশের বাইরে না গিয়ে এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। মানুষের অধিকার, ইসলামের মর্যাদা ও আলেম সমাজের পক্ষে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন। তিনি আজীবন অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন এবং দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল প্রশ্নাতীত।

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর কিছুদিন আগেও তিনি দেশের পরিস্থিতি, মানুষের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতেন। তাঁর এই দেশপ্রেম ও মানবিকতা আমাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কোনো নির্দিষ্ট দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সম্পদ। তিনি রাজনৈতিক জীবনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সবসময় মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। তার শেষ বিদায়ের জানাযায় লাখো মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে তিনি একজন দেশপ্রেমিক ও মহান হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন ১৮ কোটি জনগণের নেত্রী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজীবন গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন লড়াই করেছেন। তার এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। রাজনৈতিক প্রতিটি টালমাটাল সময়ে বেগম খালেদা জিয়া সাহসিকতার সাথে জনগণকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার আপোষহীন ভূমিকার কারণেই বিএনপি জনগণের আস্থা অর্জন করে ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসেন।

দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, আর ইউ চৌধুরী শাহিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, আহবায়ক কমিটির সদস্য ইকবাল চৌধুরী, আবুল ফয়েজ, আবুল হাসেম, খোরশেদ আলম, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, হানিফ সওদাগর। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আলহাজ্ব জাকির হোসেন, জমির উদ্দিন নাহিদ, ফাতেমা বাদশা, জিাউর রহমান জিয়া, শফিকুর রহমান, শাহাজাহন কবির শাহিন, আসিফ চৌধুরী লিমন, তৌহিদুল ইসলাম নিশাদ, মোহাম্মদ বেলাল, এনামুল হক ইনু, দিদারুল আলম, এস এম মফিজ উল্লাহ, সিরাজ মুন্সী, জেসমিনা খানম, মহসিন কবির আপেল, আলিফ উদ্দিন রুবেল, নজরুল ইসলাম, জিনিয়া রাজ্জাক, এড. সান্জি, ইঞ্জিনিয়ার শাহিন হায়াত, শফিউল আলম, সামিয়াত আমিন জিসান, আবদুল্লাহ আল হাসান সোনা মানিক, ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল্লাহ সুমন, মোহাম্মদ আনাছ, মো: শফি, জাবেদ, দিদারুল আলম, ইমরান হোসেন আবির, যুব নেতা সোহেল, সাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ, বোরহানুল হক, মামুন এলাহি, জুনাইদ রাসেল, নুরুল কবির, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদল নেতা শরিফুল ইসলাম আবির, মঞ্জুরুল আলম, মো. শোয়াইব, পারভেজ, হাসনাত, মহসিন কলেজ ছাত্রদল নেতা বাদশা, মোজাম্মেল, শাকিব ও জাহেদ প্রমুখ।

ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম