চবি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ, তথ্য প্রকাশের দাবি চাকসুর

ছবি- সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী নিয়োগসংক্রান্ত সব তথ্য ও নীতিগত ব্যাখ্যা জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) চাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চাকসুর নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব।

লিখিত বক্তব্যে চাকসুর জিএস অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন, মাদক সংশ্লিষ্টতা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের বিরোধিতায় অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভসহ কয়েকজন বিতর্কিত শিক্ষককে প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ভর্তি পরীক্ষার সময় তাকে ‘হল গার্ড’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

সাঈদ বিন হাবিব বলেন, গত ১০ জানুয়ারি আইন অনুষদে হাসান মোহাম্মদ রোমানের উপস্থিতির খবর নিশ্চিত হওয়ার পর চাকসুর নেতারা সেখানে যান। এ সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করে প্রক্টর অফিসে হস্তান্তর করা হয়।

তিনি দাবি করেন, ওই শিক্ষকের ডিজিটাল ডিভাইসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে মামলা করতে অপারগতা প্রকাশ করে এবং রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়। পরে চাকসু নেতারা হাটহাজারী থানায় মামলা করতে গেলে থানা প্রশাসন বিভিন্ন অজুহাতে সহযোগিতা করেনি বলেও অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রোমানকে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদ করায় চাকসুর সহ-ছাত্রীকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস রিতাসহ কয়েকজন নারী নেত্রীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সাইবার বুলিং ও চরিত্রহননের ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন ফেসবুক পেজে তাদের ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে অশ্লীল ও নারীবিদ্বেষী ভাষায় আক্রমণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি আপত্তিকর ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে চাকসু। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

চাকসুর জিএস বলেন, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম এবং সব ধরনের অনৈতিক ও সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে চাকসুর অবস্থান জিরো টলারেন্স। এ বিষয়ে কোনো আপোষ নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।

সংবাদ সম্মেলনে ১০ জানুয়ারির ঘটনাকে ‘মব’ ও ‘হেনস্তা’ হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করে চাকসু। সংগঠনটির দাবি, পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে এবং সেখানে কোনো শারীরিক নির্যাতন বা সহিংস আচরণের প্রমাণ নেই। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী আমলযোগ্য অপরাধে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে আটক করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা আইনসঙ্গত বলেও তারা উল্লেখ করে।

চাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চাকসু পিছু হটবে না। ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বহাল থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে চাকসুর অন্যান্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়া, সহ-সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জিহাদ আহনাফ, সহ-দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত, ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বীপা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তাওহীদ, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহসহ চাকসুর অন্যান্য প্রতিনিধিরা।

মালিহা