চাকরিকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা বদলের তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার

ছবি- সংগৃহীত।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো মূলত চাকরি পাওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল চাকরির উপযোগী মানুষ তৈরি করা নয়, বরং সৃজনশীলতা, স্বাধীন চিন্তা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকশিত করাই হওয়া উচিত শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই চাকরিপ্রার্থী হিসেবে গড়ে তোলার প্রবণতা রয়েছে। ফলে মানুষের জন্মগত সৃজনশীলতা অনেক সময় দমে যায়। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, তরুণরা কেন শুধু চাকরি খোঁজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে—কেন তারা উদ্যোক্তা হয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে না?

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষা যদি শুধু চাকরি পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে তার মৌলিক উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখে, নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করার সাহস পায় এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অঞ্চল সম্ভাবনাময় হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বিভাজন ও ভুল নীতির কারণে সেই সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগানো যায় না। তবে শিক্ষা হতে পারে এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা এই অঞ্চলের তরুণদের পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত করে তুলবে।

অনুষ্ঠানে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গেও কথা বলেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, জুলাই সনদ এবং ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারিত হবে।

সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও কূটনীতিকরা উপস্থিত রয়েছেন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ইউজিসি বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর উচ্চশিক্ষা কমিশনের মধ্যে সহযোগিতা ও নেটওয়ার্ক জোরদার করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে মোট আটটি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনে দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা, সুশাসন, গুণগতমান ও অন্তর্ভুক্তি এবং গবেষণা, উদ্ভাবন, স্থায়িত্ব ও সামাজিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা হবে।

দ্বিতীয় দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংযোজন, ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট লার্নিং ইকোসিস্টেম, গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা, উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং অংশীজনদের সংলাপসহ একাধিক সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

শেষ দিনে উচ্চশিক্ষায় জেন্ডার ইস্যু নিয়ে আলোচনা শেষে ‘ঢাকা হায়ার এডুকেশন ডিক্লারেশন’ বা ঢাকা ঘোষণার মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে বলে জানিয়েছে ইউজিসি।

মালিহা