গুগল নীরবে নতুন একটি ছবি তৈরির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) মডেল পরীক্ষা করছে, যার নাম ‘ন্যানো বানানা ২ ফ্ল্যাশ’। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গতি, দক্ষতা ও কম খরচের দিক থেকে এটি গুগলের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুতগতির ইমেজ জেনারেশন এআই হতে পারে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গুগল উন্নত এআই প্রযুক্তিকে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য আরও সহজলভ্য করার পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ন্যানো বানানা ২ ফ্ল্যাশ গুগলের জেমিনি ফ্ল্যাশ সিরিজের অংশ, যা মূলত কম লেটেন্সির (লো-ল্যাটেন্সি) জেনারেটিভ এআই মডেলের জন্য পরিচিত। যদিও গুগল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মডেলটি ঘোষণা করেনি, তবে ২০২৫ সালের শেষভাগ ও ২০২৬ সালের শুরুর দিকের বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, এটি ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে পরীক্ষামূলক ব্যবহারে রয়েছে। এতে ইঙ্গিত মিলছে, দ্রুত, সাশ্রয়ী ও সহজ এআই টুল তৈরির ক্ষেত্রে এটি গুগলের পরবর্তী বড় পদক্ষেপ হতে পারে।
তবে শক্তি ও সৃজনশীলতার দিক থেকে ন্যানো বানানা ২ ফ্ল্যাশ গুগলের শীর্ষস্থানীয় ইমেজ জেনারেশন ও এডিটিং মডেল ন্যানো বানানা প্রো (জেমিনি ৩ প্রো ইমেজ)-এর মতো উন্নত হবে না। বরং এটি তুলনামূলকভাবে অনেক দ্রুত ও কম খরচে চালানো সম্ভব হবে। ফলে হালকা কাজ, দ্রুত ছবি তৈরি, ছোট অ্যাপ ও তাৎক্ষণিক সৃজনশীল ওয়ার্কফ্লোর জন্য এটি বেশি উপযোগী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মডেলটি প্রথম শনাক্ত করেন মার্স ফর টেক (MarsForTech), যিনি জেমিনি মডেল–সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের জন্য পরিচিত। পরে এটি গুগলের অভ্যন্তরীণ কোডেও দেখা যায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মডেলটির সম্ভাব্য কোডনেম হতে পারে ‘মায়ো (Mayo)’, যা গুগলের আগের কনডিমেন্ট–ভিত্তিক নামকরণ ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
যদিও গুগল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবু অভ্যন্তরীণ কোডে বারবার মডেলটির উপস্থিতি এবং কিছু ব্যবহারকারীর স্বল্প সময়ের জন্য অ্যাক্সেস পাওয়ার দাবি ইঙ্গিত দিচ্ছে, শিগগিরই এটি উন্মুক্ত করা হতে পারে। সাধারণত এমন ঘটনাকে গুগলের বড় পরিসরে রোলআউটের প্রস্তুতির লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যানো বানানা ২ ফ্ল্যাশ চালু হলে এটি গুগলের শক্তিশালী প্রিমিয়াম মডেলগুলোর বিকল্প হবে না। বরং গতি ও নির্ভুলতার মধ্যে একটি স্পষ্ট বিকল্প দেবে। দ্রুত ও সহজ ছবি তৈরির প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারীরা এই মডেল বেছে নিতে পারবেন। এমনকি ভবিষ্যতে এটি ডেভেলপার ও ফ্রি-টিয়ার ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন ছবি তৈরির কাজেও ব্যবহার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।










