চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে সমুদ্রে বিরল খনিজের খোঁজে জাপান

বেইজিং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বা ‘রেয়ার আর্থ’-এর সরবরাহ সংকুচিত করায় চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জাপান। এরই অংশ হিসেবে সোমবার বিরল খনিজ সমৃদ্ধ কাদার সন্ধানে জাপানের একটি খনি জাহাজ গভীর সমুদ্রে যাত্রা করেছে।

‘চিকু’ নামের এই পরীক্ষামূলক জাহাজটি টোকিও থেকে প্রায় ১,৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিনামিতোরি দ্বীপের কাছে এক মাসব্যাপী অভিযান চালাবে। এটিই হবে বিশ্বের প্রথম প্রচেষ্টা, যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের ৬ কিলোমিটার (৪ মাইল) গভীর তলদেশ থেকে বিরল খনিজসমৃদ্ধ কাদা বা স্লাজ একটানা জাহাজে তোলা হবে।

গাড়ি, স্মার্টফোন এবং সামরিক সরঞ্জাম তৈরির জন্য অপরিহার্য এই খনিজগুলোর জন্য জাপান ও তার পশ্চিমা মিত্ররা চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। সম্প্রতি বেইজিংয়ের সাথে কূটনৈতিক বিরোধের জেরে এই প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান শোইচি ইশি বলেন, “সাত বছরের প্রস্তুতির পর অবশেষে আমরা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা শুরু করতে পারছি। সমুদ্রের ৬ কিলোমিটার গভীর থেকে এই খনিজ উত্তোলন করতে পারলে তা হবে এক বিশাল প্রযুক্তিগত সাফল্য এবং জাপানের সম্পদ আহরণে বৈচিত্র্য আসবে।”

গত সপ্তাহে চীন জাপানের সামরিক খাতে ব্যবহারযোগ্য দ্বৈত ব্যবহারের পণ্যের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজও রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিং জাপানে ব্যাপকভাবে বিরল খনিজ রপ্তানি সীমিত করতে শুরু করেছে। এদিকে সোমবার ওয়াশিংটনে জি-৭ ভুক্ত শিল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা বিরল খনিজের সরবরাহ নিয়ে আলোচনায় বসছেন।

২০১০ সালে পূর্ব চীন সাগরে বিরোধের পর চীন রপ্তানি বন্ধ করলে জাপান বড় ধাক্কা খায়। এরপর থেকে দেশটি চীনের ওপর নির্ভরতা ৯০% থেকে কমিয়ে ৬০%-এ নামিয়ে এনেছে। মিনামিতোরি দ্বীপের এই প্রকল্পে জাপান সরকার ২০১৮ সাল থেকে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই মিশন সফল হলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুরোদমে খনন পরীক্ষা চালানো হবে। তবে চীন এই কার্যক্রমের ওপর কড়া নজর রাখছে এবং এর আগে ওই এলাকায় চীনা নৌবাহিনীর উপস্থিতি জাপানকে উদ্বিগ্ন করেছিল।