সপ্তম–অষ্টম শ্রেণির বই সংকটে ব্যাহত পাঠদান

ছবি- সংগৃহীত।

রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চবিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখনো সব বিষয়ের পাঠ্যবই হাতে পায়নি। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এসব শ্রেণিতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির কোনো বই পৌঁছায়নি। শিক্ষাবর্ষের ১১তম দিনে এসে সপ্তম শ্রেণির কেবল বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের বই পাওয়া গেছে। অষ্টম শ্রেণিতে এসেছে পাঁচ বিষয়ের বই, তবে এখনো বেশ কয়েকটি বিষয় অনুপস্থিত। বিপরীতে, প্রাথমিক স্তরের সব শ্রেণি এবং ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির (হিসাববিজ্ঞান ছাড়া) অধিকাংশ বই ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।

এবার পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন থাকায় পুরোনো বই দিয়ে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। ফলে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির সব বই হাতে না পাওয়ায় পাঠ কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ৩০ কোটি ২ লাখের বেশি। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বই ২১ কোটি ৪৩ লাখের বেশি। ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ বই সরবরাহ করা হলেও এখনো প্রায় ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ বই বিতরণ বাকি রয়েছে।

রমনা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মারুফ জানান, তাঁদের অধীন বিদ্যালয়গুলোতে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির বই পুরোপুরি এসেছে। তবে সপ্তম শ্রেণিতে শুধু বাংলার দুটি বই এবং অষ্টম শ্রেণিতে কিছু বিষয়ের বই এখনও ঘাটতি রয়েছে। জেলা পর্যায়েও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। নেত্রকোনা জেলায় মাধ্যমিক স্তরের চার লাখের বেশি বই এখনো সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বিষয়ের বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ছাপা শেষ হলেও বাঁধাই ও সরবরাহ-পূর্ব কার্যক্রম শেষ করতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

নতুন বই হাতে পেতে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি বাড়ছে বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।

মালিহা