বিএনপিতে যোগ দিলেন জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের শতাধিক নেতাকর্মী

খাগড়াছড়ির রাজনৈতিক অঙ্গনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে নতুন সমীকরণ। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দীঘিনালা উপজেলায় জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান স্থানীয় রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনাকে রাজনৈতিক শক্তির পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) দীঘিনালা উপজেলায় আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের প্রায় শতাধিক নেতা-কর্মী ফুল দিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জননেতা ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে সমর্থন দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।

যোগদানকারী নেতারা জানান, পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা, উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করা এবং খাগড়াছড়িতে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের মতে, ওয়াদুদ ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি জনপদের রাজনীতিতে আপসহীন ও জনবান্ধব নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন, যা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।
যোগদানকারী এক নেতা বলেন, “দলীয় পরিচয়ের চেয়েও এই মুহূর্তে আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ খাগড়াছড়ির স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন। সেই বিবেচনায় ওয়াদুদ ভূঁইয়াই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নেতা।”

নতুন নেতাকর্মীদের স্বাগত জানিয়ে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, “আজ যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, তারা শুধু একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি—তারা খাগড়াছড়ির শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই পাহাড়ে বিভাজনের রাজনীতি নয়, আমাদের প্রয়োজন ঐক্যের রাজনীতি।”
তিনি আরও বলেন, “পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই খাগড়াছড়ির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। আজ যারা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতা ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ খাগড়াছড়ি গড়ে তুলব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে দলীয় সীমারেখা তুলনামূলকভাবে নমনীয়। এখানে ব্যক্তি নেতৃত্ব, সামাজিক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন ভাবনাই ভোটের বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদান সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।

রঞ্জন দাশ, খাগড়াছড়ি