জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানিয়েছেন, দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শামীম পাটোয়ারী জানান, এদিন থেকেই জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করবে; অন্যথায় দেশের চলমান সংকট কাটবে না। তিনি ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনকে এ ক্ষেত্রে নেতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত ৯টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিটিতেই জাতীয় পার্টি অংশ নিয়েছে। তবে নির্বাচনের দুই মাস আগে কখনোই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটা খারাপ ছিল বলে মনে হয় না। ভোটের আগে রাজনৈতিক সমঝোতা ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সে ধরনের উদ্যোগের অভাব রয়েছে, ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব অভিযোগ করেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। তিনি ওসমান হাদিকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনা এবং নেহারি খাওয়ার ছবি পোস্ট করায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এসব ঘটনা মতপ্রকাশের ওপর ভয় সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, একটি “পাতানো নির্বাচন”, “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং”, কিংবা ভোটের পর ভোট বা মিডিয়া ভোটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—যা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
শামীম পাটোয়ারী বলেন, জাতীয় পার্টি সবসময় ইতিবাচক রাজনীতির পক্ষে থেকেছে এবং অতীতে সরকার ও বিরোধী দল—উভয় ভূমিকাতেই দায়িত্ব পালন করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল একাত্তরের চেতনাকে বিকৃত করার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, ২০২৪ সাল একাত্তরের পরাজয় নয়; বরং ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার অংশ।
তিনি আরও বলেন, গত এক বছরে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি এবং সর্বত্র মব সন্ত্রাস ও মিথ্যা মামলার প্রবণতা বেড়েছে। তিনি জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়ার জামিন পাওয়ার পরও জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেফতারের ঘটনাকে হয়রানির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনের আগ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী বা সমর্থককে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার না করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সবুর আসুদ, সাইফ উদ্দিন আহমেদ মিলনসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।










