সাস্টেইনেবল ফ্যাশন: পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পোশাক

‘সাসটেইনেবল ফ্যাশন’ টার্মটি শুনে মনে হতে পারে, জামাকাপড় কীভাবে অনেক দিন ধরে টিকিয়ে রাখা যায় তা থেকেই এই ধারণার উদ্ভব। এছাড়া উৎপাদন ও ব্যবহার যা পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন শিল্পে এখন পরিবেশবান্ধব উপকরণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাপড়, শ্রমিক কল্যাণ এবং দায়িত্বশীল উৎপাদনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘সাসটেইনেবল ফ্যাশন’ যা একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকারক প্রভাবকে কমিয়ে আনবে সাথে সাথে সমাজের উপকার এবং শিল্পের বিস্তার লাভ করবে ।

সাস্টেইনেবল ফ্যাশন কী?

সাস্টেইনেবল ফ্যাশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে পোশাক উৎপাদন ও ব্যবহার পরিবেশের ক্ষতি কমায়, সমাজের উপকারে আসে এবং শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করে তোলে।

মূল লক্ষ্য

  • পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার
  • অপচয় কমানো ও পুনর্ব্যবহার
  • গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে উৎপাদন
  • উৎপাদিত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা
  • শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা
  • কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও সরক্ষা ব্যবস্থা অনুসরণ করা।

সাস্টেইনেবল ফ্যাশনের মূল ভিত্তি

পরিবেশবান্ধব উপকরণ:জৈব তুলা (organic cotton), পুনর্ব্যবহৃত কাপড় (recycled fabrics) এবং কম পানি ও রাসায়নিক ব্যবহার করে তৈরি ফাইবার ব্যবহার করা।

নৈতিক উৎপাদন: শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ সরবরাহ শৃঙ্খল (supply chain) বজায় রাখা।

ভোক্তা অধিকার:  কম পোশাক কেনা, ভালো মানের টেকসই পোশাক বেছে নেওয়া, পুরনো পোশাক পুনরায় ব্যবহার করা বা রিসাইকেল করা, এবং ‘ফাস্ট ফ্যাশন’-এর ক্ষতিকর দিকগুলো এড়িয়ে চলা।

বর্জ্য হ্রাস ও অর্থনীতি: পোশাকের উৎপাদন ও ব্যবহার শেষে বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহার (recycling) ও পুনঃব্যবহার (upcycling) বৃদ্ধি করা, এবং পোশাকের জীবনচক্র দীর্ঘায়িত করা।

কেন এটি শুধু ট্রেন্ড নয়?

জরুরি প্রয়োজন: বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব (যেমন কার্বন নিঃসরণ ও বর্জ্য) এতটাই ভয়াবহ যে, এটি এখন একটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি: তরুণ প্রজন্মসহ সচেতন ক্রেতারা শুধু স্টাইল নয়, বরং পোশাকের উৎস, উৎপাদন পদ্ধতি এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করছেন, যা টেকসই ফ্যাশনের চাহিদা বাড়াচ্ছে।

শিল্পের পরিবর্তন: বড় ব্র্যান্ডগুলোও এখন টেকসই চর্চা গ্রহণ করছে, যা প্রমাণ করে এটি শুধু বাজারের চাহিদা নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক ও নৈতিক অঙ্গীকার।

সংস্কৃতির পরিবর্তন: এটি এখন ‘ফাস্ট ফ্যাশন’-এর বিপরীতে ‘ধীর ফ্যাশন’-এর একটি সংস্কৃতি, যেখানে গুণগত মান ও স্থায়িত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা একটি স্থায়ী পরিবর্তন।

 বাংলাদেশে সাস্টেইনেবল ফ্যাশন কেন জরুরি?

প্রতিদিন নতুন নতুন পোশাক উৎপাদনের সময় প্রচুর বর্জ্য, পানি দূষণ ও কার্বন নিঃসরণের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। টেকসই ফ্যাশন গ্রহণ করলে পরিবেশ রক্ষা, সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হবে।

গত কয়েক বছরের ফ্যাশন ট্রেন্ডে অনেক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে মিনিমালিজম ও সিম্পলিসিটি। এ ছাড়া ফ্যাশন ট্রেন্ড হিসেবে উঠে এসেছে অ্যাকটিভ ওয়্যার। পলো শার্ট, ওয়াইড লেগ ফর্মাল প্যান্টের পাশাপাশি উজ্জ্বল ও চকচকে ফেব্রিক সমানভাবে ট্রেন্ড কাঁপিয়েছে। অন্যান্য ট্রেন্ডি ফ্যাশনের মধ্যে ছিল ফ্যাশনের গতিশীলতা, বোল্ড প্যাটার্ন ও পরিশীলিত শৈলীর মিশ্রণের প্রতিফলন।

এখন পোশাকের নকশা বা প্যাটার্নে নানা ধরনের প্যাটার্ণ যাচ্ছে সুনির্দিষ্ট একক কোনো ধারার শক্তিশালী প্রভাব দেখা যায়নি বললেই চলে। তার মাঝেও বিশেষ কিছু পরিবর্তন চোখে পড়েছে। এখন বেড়েছে সাসটেইনেবল ফ্যাশন বিষয়ে সচেতনতা ও চর্চা। নিজের পোশাক নানাভাবে ব্যবহার করা, আপসাইকেল ও রিসাইকেল করার বোধ এ বছর অনেক দেখা গেছে। সেই সাথে বেড়েছে ন্যাচারাল ডাইয়ের কদর। আরামদায়ক কাপড়ের ব্যবহার বাড়লেও, কমেছে পোশাকে সূচীকর্ম। আমদানি করা বিদেশি পোশাক বা বিদেশি ম্যাটেরিয়াল ব্যবহারের খুব একটা কমতি দেখা যায়নি। তবে দেশীয় ফ্যাশন হাউজগলো সাসটেইনেবল ফ্যাশন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের ডিজাইনাররা শুধু ট্রেন্ড নয়, বরং একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন, যেখানে ফ্যাশন মানেই দায়িত্বশীলতা।

সাস্টেইনেবল ফ্যাশনের মূল ভিত্তি:

পরিবেশবান্ধব উপকরণ: জৈব তুলা (organic cotton), পুনর্ব্যবহৃত কাপড় (recycled fabrics) এবং কম পানি ও রাসায়নিক ব্যবহার করে তৈরি ফাইবার ব্যবহার করা।

নৈতিক উৎপাদন: শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ সরবরাহ শৃঙ্খল (supply chain) বজায় রাখা।

সাধারণ ভোক্তা অধিকার: কম পোশাক কেনা, ভালো মানের টেকসই পোশাক বেছে নেওয়া, পুরনো পোশাক পুনরায় ব্যবহার করা বা রিসাইকেল করা, এবং ‘ফাস্ট ফ্যাশন’-এর ক্ষতিকর দিকগুলো এড়িয়ে চলা।

বর্জ্য হ্রাস ও অর্থনীতি: চক্রাকার  পোশাকের উৎপাদন ও ব্যবহার শেষে বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহার (recycling) ও পুনঃব্যবহার (upcycling) বৃদ্ধি করা, এবং পোশাকের জীবনচক্র দীর্ঘায়িত করা।

সাস্টেইনেবল ফ্যাশন শুধু একটি ট্রেন্ড নয়, বরং পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য অপরিহার্য একটি আন্দোলন। পরিবেশবান্ধব উপকরণ, নৈতিক উৎপাদন ও সচেতন ভোক্তা আচরণই টেকসই ফ্যাশনের মূল ভিত্তি।

সাবিনা নাঈম