থাইরয়েড একটি ক্রনিক অসুখ এবং এটি কোনো বয়স সীমাবদ্ধ রাখে না। পুরুষদের তুলনায় মহিলারা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হন। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে হরমোন বেড়ে গেলে বা কমে গেলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে ওজন বেড়ে বা কমে যাওয়া, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, ক্লান্তি ইত্যাদি। থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়লে ওষুধের সঙ্গে কিছু বিশেষ পানীয়ও হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
থাইরয়েড ও পানীয়ের সম্পর্ক
থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের মেটাবলিজম, শক্তি উৎপাদন ও হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে (হাইপারথাইরয়েডিজম) বা কমে গেলে (হাইপোথাইরয়েডিজম) নানা সমস্যা দেখা দেয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও কিছু পানীয় এই ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে উপকারী পানীয়
অশ্বগন্ধার চা: মানসিক চাপ কমায়, ঘুমের সমস্যা দূর করে, হজম শক্তি বাড়ায়। হাইপোথাইরয়েডিজমে বিশেষ কার্যকর।
দারুচিনির পানি: অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়, প্রদাহ হ্রাস করে, থাইরয়েড কার্যকারিতা বাড়ায়। হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতায় সহায়ক।
গ্রিন টি: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, বিপাক হার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক একটি পানীয়।
মেথি ভেজানো পানি: ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। হাইপোথাইরয়েড রোগীদের জন্য উপকারী।
মোরিঙ্গার চা: মোরিঙ্গা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ। এটি থাইরয়েড টিস্যুর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, বিপাক হার বাড়ায় এবং ক্লান্তি ও দুর্বলতা দূর করে। মোরিঙ্গার আয়রন লাল রক্তকণিকা গঠনে সহায়ক।
পালংশাকের স্মুদি: পালংশাকে রয়েছে আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফোলেট, যা হরমোনাল ও মেটাবলিক ব্যালান্স বজায় রাখতে সাহায্য করে। পালংশাকের সঙ্গে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল বা সবজি মিশালে এটি আরো ভালো কাজ করে।
অ্যালোভেরা জুস: অ্যালোভেরা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ। এটি থাইরয়েডের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং গ্রন্থির কোষ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এ ছাড়া শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের করতে, লিভার ও পাচনতন্ত্রের জন্যও অ্যালোভেরা জুস উপকারী।
লেবু পানি: শরীর ডিটক্স করে, হজমে সহায়তা করে। সাধারণভাবে থাইরয়েড রোগীদের জন্য এই পানীয়টি খুবই উপকারি।
আদা চা: প্রদাহ কমায়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। থাইরয়েডজনিত ক্লান্তি কমাতে সহায়ক একটি পানীয়।
সতর্কতা ও সীমাবদ্ধতা
ওষুধের বিকল্প নয়: এসব পানীয় থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হলেও চিকিৎসকের নির্দেশিত ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।
অতিরিক্ত সেবন ক্ষতিকর: যেমন গ্রিন টি অতিরিক্ত খেলে আয়রন শোষণে সমস্যা হতে পারে।
ব্যক্তিভেদে ভিন্নতা: কারও ক্ষেত্রে কার্যকর হলেও অন্য কারও ক্ষেত্রে তেমন প্রভাব নাও থাকতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি: বিশেষ করে যদি হরমোনের মাত্রা খুব বেশি বা কম থাকে।
ব্যবহারিক টিপস
· সকালে খালি পেটে লেবু পানি বা মেথি ভেজানো পানি পান করা যেতে পারে।
· দুপুরে বা সন্ধ্যায় গ্রিন টি বা দারুচিনির পানি ভালো।
· রাতে ঘুমানোর আগে অশ্বগন্ধার চা মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর।
· প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, কারণ ডিহাইড্রেশন থাইরয়েড সমস্যাকে বাড়াতে পারে।
থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে অশ্বগন্ধার চা, দারুচিনির পানি, গ্রিন টি, মেথি ভেজানো পানি ইত্যাদি পানীয় সহায়ক ভূমিকা রাখে। তবে এগুলো সহায়ক চিকিৎসা মাত্র, মূল চিকিৎসা হিসেবে ওষুধ ও চিকিৎসকের পরামর্শ খুবই প্রয়োজন।
সাবিনা নাঈম










