প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

ছবি- সংগৃহীত।

প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন একদল নিয়োগপ্রত্যাশী। তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১১ জানুয়ারি) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এসব তথ্য জানান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। তিনি বলেন, পরীক্ষা শুরুর আগ পর্যন্ত ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিবি, এসবি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে প্রশ্নগুলো উদ্ধার করা হয়েছিল, সেগুলোর সঙ্গে মূল পরীক্ষার প্রশ্নের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তবে প্রশ্নফাঁসের চেষ্টা হয়েছে— এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

ডিজি আরও বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকলের চেষ্টা হয়েছে, যা প্রশ্নফাঁসের পর্যায়ে পড়ে না। এ ধরনের অনিয়মের দায়ে ২০৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা বাতিলের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, চাকরিপ্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে অভিযোগগুলো তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তে যদি গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে। এর আগেও এ ধরনের অভিযোগে দুটি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

এর আগে রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান ফটকের সামনে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। এ সময় তাঁরা পরীক্ষায় অনিয়ম, জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে— সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া, সব চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় আয়োজন করা এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার স্থাপন, স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করে তার অধীনে সব পরীক্ষা গ্রহণ এবং একই দিনে একই সময়ে একাধিক পরীক্ষা না নেওয়া।

এ ছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতীতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব না দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা এবং প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের দাবিও তোলা হয়।

মালিহা