যুক্তরাজ্যের ভিসা প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

কঠোর অভিবাসন নীতি ও শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি সীমিত করছে যুক্তরাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি নতুন ভিসা বিধিনিষেধের কারণে আবেদন বাতিলের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

একাধিক ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের নতুন ভিসা নিয়মে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পনসর করা শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেশি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্পনসর লাইসেন্স ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই লাইসেন্স হারালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা এড়াতে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশ থেকে শিক্ষার্থী নিয়োগ সাময়িকভাবে স্থগিত বা সীমিত করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। বরং হোম অফিসের কঠোর কমপ্লায়েন্স, নজরদারি ও জবাবদিহিতার কারণেই এমন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। তবে শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব যোগান দিয়ে থাকেন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শিক্ষার্থী ভর্তি কমে গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক চাপ বাড়তে পারে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ভিসা নীতির এই কঠোরতা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক শিক্ষা গন্তব্য হিসেবে সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং শিক্ষার্থীরা বিকল্প গন্তব্যের দিকে ঝুঁকতে পারেন।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের দাবি, শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতেই এই সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হচ্ছে।

-এমইউএম