কাছাকাছি সময়ে মুক্তি পাওয়া দুই সিনেমা ‘থামা’ ও ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’-এ রাশমিকা মান্দানাকে দেখলে মনে হয়, একই অভিনেত্রী হলেও চরিত্র দুটির মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। বলিউড যেখানে তাঁকে গ্ল্যামারের প্রতীক বানিয়ে তুলতে ব্যস্ত, সেখানে দক্ষিণি ইন্ডাস্ট্রি ভরসা রেখেছে তার অভিনয় ক্ষমতা ও সংবেদনশীলতার ওপর। ‘থামা’র গানে আবেদনময়ী রাশমিকার বিপরীতে ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’-এ তিনি একেবারেই আলাদা—নীরব, ভেতরে ভেতরে ভাঙা, অথচ গভীরভাবে মানবিক।
রাহুল রবীন্দ্রনের পরিচালনায় ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’ কোনো চড়া আবেগ বা অতিনাটকীয় প্রেমকাহিনি নয়। ছবিটি সম্পর্কের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অস্বস্তিকর সত্যগুলোকে ধীরে, সংযত ভঙ্গিতে সামনে আনে। এখানে কোনো বড়সড় বক্তব্য চাপিয়ে দেওয়া হয় না; বরং দর্শককে নিজেই সত্যগুলো খুঁজে নিতে বলা হয়।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র বিক্রম (ধীক্ষিত শেঠি) ও ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী ভূমা (রাশমিকা মান্দানা)। তরুণ বয়সের প্রেম, একসঙ্গে সময় কাটানো, ছোট ছোট আনন্দের আড়ালেই ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এক অসম সম্পর্কের বাস্তবতা। বিক্রম আত্মবিশ্বাসী, কর্তৃত্বপরায়ণ এবং তথাকথিত ‘হিরো’ ইমেজে অভ্যস্ত। অন্যদিকে ভূমা লাজুক, অন্তর্মুখী ও আত্মত্যাগে অভ্যস্ত। পরিচালক দেখান, কীভাবে বিক্রমের বেড়ে ওঠা তাঁকে অন্যের সাফল্য খাটো করতে শেখায়, আবার ভূমার শৈশবের অবহেলা তাঁকে সব সহ্য করে নেওয়ার মানুষে পরিণত করে।
ছবিটি মূলত এই দুই চরিত্রের মনোজগৎ বিশ্লেষণে সময় নেয়। বিক্রম যখন ভূমার অর্জনকে তুচ্ছ করে, দর্শক বিরক্ত হয়; কিন্তু একই সঙ্গে বোঝে, এই মানসিকতার পেছনে সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব রয়েছে। ভূমা যখন নীরবে সব মেনে নেয়, তখন প্রশ্ন জাগে—এই সহনশীলতার উৎস কোথায়? এক সংবেদনশীল দৃশ্যে তার শৈশবের ট্রমা সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়।
রাশমিকা মান্দানা ও ধীক্ষিত শেঠির অভিনয় ছবিটিকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে রাশমিকার সংযত অভিনয় চরিত্রের যন্ত্রণা আরও বাস্তব করে তোলে। ছবির আরেক চমক অনু ইমানুয়েল অভিনীত দুর্গা চরিত্রটি, যিনি প্রচলিত ‘স্টেরিওটাইপ’ ভেঙে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
কিছু জায়গায় অতিরিক্ত ব্যাখ্যার চেষ্টা থাকলেও ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’ সামগ্রিকভাবে একটি পরিণত নির্মাণ। এটি নৈতিকতার পাঠ না দিয়ে স্পষ্ট করে বলে—একটি সম্পর্কে না থাকার সিদ্ধান্তই যথেষ্ট কারণ হতে পারে, বিশেষ করে যখন সম্পর্কটি বিষাক্ত। আর এই বার্তাই সিনেমাটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
কাছাকাছি সময়ে মুক্তি পাওয়া দুই সিনেমা ‘থামা’ ও ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’-এ রাশমিকা মান্দানাকে দেখলে মনে হয়, একই অভিনেত্রী হলেও চরিত্র দুটির মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। বলিউড যেখানে তাঁকে গ্ল্যামারের প্রতীক বানিয়ে তুলতে ব্যস্ত, সেখানে দক্ষিণি ইন্ডাস্ট্রি ভরসা রেখেছে তার অভিনয় ক্ষমতা ও সংবেদনশীলতার ওপর। ‘থামা’র গানে আবেদনময়ী রাশমিকার বিপরীতে ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’-এ তিনি একেবারেই আলাদা—নীরব, ভেতরে ভেতরে ভাঙা, অথচ গভীরভাবে মানবিক।
রাহুল রবীন্দ্রনের পরিচালনায় ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’ কোনো চড়া আবেগ বা অতিনাটকীয় প্রেমকাহিনি নয়। ছবিটি সম্পর্কের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অস্বস্তিকর সত্যগুলোকে ধীরে, সংযত ভঙ্গিতে সামনে আনে। এখানে কোনো বড়সড় বক্তব্য চাপিয়ে দেওয়া হয় না; বরং দর্শককে নিজেই সত্যগুলো খুঁজে নিতে বলা হয়।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র বিক্রম (ধীক্ষিত শেঠি) ও ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী ভূমা (রাশমিকা মান্দানা)। তরুণ বয়সের প্রেম, একসঙ্গে সময় কাটানো, ছোট ছোট আনন্দের আড়ালেই ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এক অসম সম্পর্কের বাস্তবতা। বিক্রম আত্মবিশ্বাসী, কর্তৃত্বপরায়ণ এবং তথাকথিত ‘হিরো’ ইমেজে অভ্যস্ত। অন্যদিকে ভূমা লাজুক, অন্তর্মুখী ও আত্মত্যাগে অভ্যস্ত। পরিচালক দেখান, কীভাবে বিক্রমের বেড়ে ওঠা তাঁকে অন্যের সাফল্য খাটো করতে শেখায়, আবার ভূমার শৈশবের অবহেলা তাঁকে সব সহ্য করে নেওয়ার মানুষে পরিণত করে।
ছবিটি মূলত এই দুই চরিত্রের মনোজগৎ বিশ্লেষণে সময় নেয়। বিক্রম যখন ভূমার অর্জনকে তুচ্ছ করে, দর্শক বিরক্ত হয়; কিন্তু একই সঙ্গে বোঝে, এই মানসিকতার পেছনে সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব রয়েছে। ভূমা যখন নীরবে সব মেনে নেয়, তখন প্রশ্ন জাগে—এই সহনশীলতার উৎস কোথায়? এক সংবেদনশীল দৃশ্যে তার শৈশবের ট্রমা সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়।
রাশমিকা মান্দানা ও ধীক্ষিত শেঠির অভিনয় ছবিটিকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে রাশমিকার সংযত অভিনয় চরিত্রের যন্ত্রণা আরও বাস্তব করে তোলে। ছবির আরেক চমক অনু ইমানুয়েল অভিনীত দুর্গা চরিত্রটি, যিনি প্রচলিত ‘স্টেরিওটাইপ’ ভেঙে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
কিছু জায়গায় অতিরিক্ত ব্যাখ্যার চেষ্টা থাকলেও ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’ সামগ্রিকভাবে একটি পরিণত নির্মাণ। এটি নৈতিকতার পাঠ না দিয়ে স্পষ্ট করে বলে—একটি সম্পর্কে না থাকার সিদ্ধান্তই যথেষ্ট কারণ হতে পারে, বিশেষ করে যখন সম্পর্কটি বিষাক্ত। আর এই বার্তাই সিনেমাটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
বিথী রানী মণ্ডল/










