ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা বন্ড অব্যাহতি চান ড. খলিলুর রহমান

বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সহজ করতে স্বল্পমেয়াদি বি-১ ব্যবসায়িক ভিসার ক্ষেত্রে ‘ভিসা বন্ড’ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি এই অনুরোধ জানান।

মার্কিন রাজনৈতিকবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক ভিসা বন্ড নিয়মের কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র যাতায়াত জটিল হয়ে পড়েছে। এটি দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে কৃষিপণ্য আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সহজ করা জরুরি।

জবাবে অ্যালিসন হুকার জানান, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। ভবিষ্যতে পর্যটকদের ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে অবস্থানের (ওভারস্টে) হার কমলে এই বন্ড নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। উল্লেখ্য, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য ৫ থেকে ১৫ হাজার ডলারের এই বন্ড নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে মার্কিন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অ্যালিসন হুকার বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকবে এবং তারা আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। হুকার এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘দায়িত্ব ভাগাভাগি’র ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জীবিকা কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি) অর্থায়নের সুযোগ দেওয়ারও অনুরোধ জানান নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এ ছাড়া তিনি গাজায় মোতায়েনের জন্য প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে বাংলাদেশের নীতিগত অংশগ্রহণের আগ্রহের কথা জানালে যুক্তরাষ্ট্র সেটিকে স্বাগত জানায়।

-এম এইচ মামুন