দেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক আয়ের উৎস তৈরি পোশাক খাত দীর্ঘস্থায়ী মন্দার মুখে পড়েছে। টানা পাঁচ মাস ধরে এ খাতে রপ্তানি হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে পোশাক রপ্তানির প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসহ মোট ২৬টি দেশে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি কমেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ইপিবির হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপের কয়েকটি দেশে রপ্তানি কমার হার উদ্বেগজনক। ক্রোয়েশিয়ায় রপ্তানি কমেছে ৭৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ—যা ৩৪ মিলিয়ন ডলার থেকে নেমে এসেছে মাত্র ৮ মিলিয়নে। চেক প্রজাতন্ত্রে রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ২৩ শতাংশ, ১৬৫ মিলিয়ন ডলার থেকে নেমে হয়েছে ১৬২ মিলিয়ন ডলার।
ডেনমার্কে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ফিনল্যান্ডে ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। ফ্রান্সে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ, আর জার্মানিতে কমেছে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ। ইতালিতে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং আয়ারল্যান্ডে কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। লুক্সেমবার্গ, রোমানিয়া ও স্লোভেকিয়ায় রপ্তানির পতন তুলনামূলকভাবে বেশি। সুইডেনেও হ্রাসের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
উত্তর আমেরিকার প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি সামান্য কমেছে। দেশটিতে রপ্তানি ৩ হাজার ৮৪৩ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৩৯ মিলিয়ন ডলারে।
ইউরোপের বাইরের অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। রাশিয়া, তুরস্ক ও মেক্সিকোতে রপ্তানি ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও অস্ট্রেলিয়াতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে। জাপান ও চিলিতে কমার হার তুলনামূলকভাবে কম হলেও সামগ্রিক ধারা নেতিবাচক। নিউজিল্যান্ডেও রপ্তানি কমেছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবেই এই সাময়িক মন্দা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, নতুন পণ্য উদ্ভাবন, ডিজিটাল বিপণন জোরদার এবং নতুন বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার পরিবর্তন, সরবরাহ চেইনের স্থিতিশীলতা এবং উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ—এই বিষয়গুলো রপ্তানি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাজারে চাহিদা বাড়াতে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আফরিনা সুলতানা/










