ইয়ারবাডে অভ্যস্ত জীবন, ঝুঁকিতে শ্রবণশক্তি

ছবি: সংগৃহীত

স্মার্টফোন ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ইয়ারবাড এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গান শোনা, অনলাইন মিটিং, ভিডিও দেখা কিংবা ফোনে কথা বলার ক্ষেত্রে ইয়ারবাডের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত ও দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহারে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, অতিরিক্ত শব্দে দীর্ঘ সময় কান অভ্যস্ত হলে ধীরে ধীরে স্থায়ী শ্রবণ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে ইয়ারবাড ব্যবহার করেও কান সুরক্ষিত রাখা সম্ভব বলেন বিশেষজ্ঞরা।

নিরাপদ শব্দমাত্রা বজায় রাখা জরুরি

চিকিৎসকদের মতে, ইয়ারবাড ব্যবহারের সময় ভলিউম কখনোই সর্বোচ্চ মাত্রার ৬০ শতাংশের বেশি রাখা উচিত নয়। অতিরিক্ত শব্দ কানের ভেতরের সংবেদনশীল স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

একটানা ব্যবহার এড়িয়ে চলুন

টানা এক ঘণ্টার বেশি ইয়ারবাড ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতি ৩০-৪০ মিনিট পর অন্তত ৫–১০ মিনিট বিরতি নিলে কান বিশ্রাম পায় এবং ক্ষতির ঝুঁকি কমে।

নইজ ক্যানসেলিং ইয়ারবাডের সুবিধা

উচ্চ শব্দের পরিবেশে সাধারণ ইয়ারবাড ব্যবহার করলে ভলিউম বাড়ানোর প্রবণতা তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে নইজ ক্যানসেলিং ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কম শব্দেও স্পষ্ট শোনা যায়, ফলে কানের ওপর চাপ কম পড়ে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

দীর্ঘদিন ব্যবহার করা অপরিষ্কার ইয়ারবাড থেকে কানে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নিয়মিত ইয়ারবাড পরিষ্কার করা এবং অন্যের ব্যবহৃত ইয়ারবাড ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

কানে অস্বস্তি হলে সতর্ক হোন

ইয়ারবাড ব্যবহারের পর কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, ব্যথা বা কম শোনার অনুভূতি হলে তা উপেক্ষা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাসই পারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি শ্রবণশক্তিকে দীর্ঘদিন ঠিক রাখতে। ইয়ারবাড ব্যবহার বন্ধ নয়, বরং নিরাপদ ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলাই শ্রেয়।

-সাবরিনা রিমি