শুল্ক কমলেও বেড়েছে খেজুরের দাম

রমজান মাসকে (ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্র করে সরকার খেজুর আমদানিতে শুল্ক কমালেও বাজারে এর সুফল মিলছে না; বরং গত কয়েক দিনে খেজুরের দাম উল্টো বেড়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫% থেকে কমিয়ে ১৫% করলেও খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে দাম কমার বদলে বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। তবে ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরের বাজার নিয়ে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ। সরকার বড় ধরনের শুল্ক ছাড় ও এলসি মার্জিন সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু শুল্ক কমানোর ঘোষণার পরও বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব নেই। উল্টো সিন্ডিকেটের কারসাজিতে খেজুরের দাম কেজিতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ এবং আগাম আয়কর ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এই ছাড়ের ফলে আমদানিকৃত প্রতি কেজি খেজুরের দাম অন্তত ৬০ থেকে ৮০ টাকা কমার কথা। কিন্তু রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও মৌলভীবাজারের পাইকারি আড়তগুলোয় শুল্ক ছাড়ের সুফল আমদানিকারক ও পাইকারি বিক্রেতাদের পকেটেই রয়ে গেছে।

বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, নিম্ন-আয়ের মানুষের ভরসা ‘জাহেদি’ বা সাধারণ বস্তা খেজুরও এখন নাগালের বাইরে। গত ১০ দিনে এই খেজুরের ১০ কেজির কার্টন ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। উন্নত মানের মরিয়ম, মাবরুম কিংবা মেডজুল খেজুরের দাম এখন আকাশচুম্বী, যা সাধারণ মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা ছাড়িয়েছে।

আমদানিকারকদের দাবি, শুল্ক কমলেও বন্দরে কাস্টমস অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা ট্যারিফ মূল্য বেশি ধরা হচ্ছে, যার কারণে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, বাজারে খেজুরের কোনো সংকট নেই। মূলত রমজানকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।

ক্রেতারা বলছেন, দাম না কমলে তাদের কষ্ট কমবে না। আর বিক্রেতারা জানান, আগে যে খেজুর ১৫০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা কিনতেই ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা লাগছে। ফলে বিক্রির দামও বেড়েছে। রমজানের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানির এলসি সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় ডাল, চিনি, পেঁয়াজ ও রসুনের আমদানি ১১ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে চাহিদার তুলনায় ১ থেকে ৩৬ শতাংশ বেশি আমদানি হয়েছে আদা, ছোলা ও ভোজ্যতেল। এরইমধ্যে বাজারে ১৯২ শতাংশ বেশি খেজুর প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ডাল, চিনি, ছোলা ও তেলসহ রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যে সরবরাহ ঘাটতি নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি ও মজুত রয়েছে। যারা আমদানি করেছেন তারা সঠিকভাবে সরবরাহ করলে কোনো পণ্যের ঘাটতি থাকবে না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের অনুরোধে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে এনবিআর। অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে এবং আগাম করের ৫ শতাংশ পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। এরপরও যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করা হয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকার পরিস্থিতি নজরে রাখছে। কেউ সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করলে শক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত টিম বাজারে তৎপর থাকবে। ক্রেতারা প্রতিযোগিতা কমিশন ও ভোক্তা অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

-মামুন